যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে গাড়ির ধাক্কায় আরেক গাড়িতে থাকা এক বাংলাদেশি পরিবারের দুই সদস্য নিহত ও দুজন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় ধাক্কা দেওয়া গাড়ির চালকও আহত হয়েছেন, যিনি ঘটনার সময় মদ্যপ ছিলেন বলে সেখানকার অ্যাটর্নি জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় মন্টগোমারি কাউন্টিতে বেথেসডার কাছে ইন্টারস্টেট ২৭০ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মা শামিমা বেগম (৪৬) ও মেয়ে আরিহা জাহিন (২৩)। শামিমার স্বামী ফারুক হোসেন (৬২) ও আরেক কন্যা রুবাইয়া হোসেন (৯) আহত হয়েছেন। এ পরিবারের কারটি চালাচ্ছিলেন ফারুক।
তাদের বাসা ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়ায়। বছর কয়েক আগে বাংলাদেশের বরগুনা থেকে তারা অভিবাসন ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
মেরিল্যান্ডের গেইথার্সবার্গে ইসলামিক সেন্টারে সোমবার জানাজা শেষে সেখানেই নিহতদের দাফন করা হয়েছে।
ভুল পথে আসা চালক মদ্যপ ছিলেন
সংবাদমাধ্যম এনবিসিফোর ওয়াশিংটন লিখেছে, মন্টগোমারি কাউন্টির অ্যাটর্নি জন ম্যাককার্থি জানিয়েছেন, শনিবার ইন্টারস্টেট ২৭০-এ ভুল পথে আসা গাড়ির সঙ্গে আরেক গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে এক মা ও তার মেয়ে নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর পানের কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার ৩২ বছর বয়সী হোসে কাবায়েরো-নোলাসকোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শোনার পর তাকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এক বিচারক। ওই চালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলাজনিত হত্যা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে হত্যা এবং মোটরযানের মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকিরমতো আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জন ম্যাককার্থি বলেন, “গাড়িটি ভুল পথে যাচ্ছিল। এটা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি। অভিযোগপত্রেও সেটি উল্লেখ আছে। তিনি কোথা থেকে মহাসড়কে উঠেছিলেন, কতক্ষণ ধরে ভুল পথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন—এগুলো এখনো তদন্তাধীন। তাই আমি কমিউনিটির সবার কাছে বলব, আপনারা যদি ঘটনাটি ঘটতে দেখে থাকেন, তাহলে স্টেট পুলিশকে জানান। কমিউনিটির কাছ থেকে আমরা এমন তথ্য পেতে চাই, যাতে আমরা যতটা সম্ভব সঠিকভাবে ঘটনাটি জানতে পারি। আপনি যদি তাকে মহাসড়কে উঠতে দেখে থাকেন, তাহলে কোথায় দেখেছেন তা আমাদের জানান।”
সোমবার আদালতের বাইরে কাবায়েরো-নোলাসকোর আইনজীবী শ্যারন ডায়মন্ড বলেন, তিনি এল সালভাদরের একজন নির্মাণশ্রমিক। তিনি ১০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং তার বান্ধবীর সঙ্গে সন্তানের বাবা হতে যাচ্ছেন। তার যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের বিষয়টি জানা যায়নি।
ডায়মন্ড বলেন, “গত রাতে তার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ফোনে কথা বলেছি। তাকে হতভম্ব মনে হয়েছে; উনি এখনো বিষয়টি নিয়ে মানসিক ধাক্কার মধ্যে আছেন। যা ঘটেছে, তার জন্য তিনি অত্যন্ত অনুতপ্ত—আমি এটাই বলব। তবে এই মুহূর্তে তিনি হতভম্ব।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









