ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশকেই তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অঞ্চলটির কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে এ তথ্য জানায় আনাদোলু এজেন্সি। গালিবাফ বলেন, ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে এমন অঞ্চলে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না। তার এ বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে।
ইরানের তেল রপ্তানি বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধের মুখে রয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আগস্টে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শূন্যে নেমেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের সামরিক সহায়তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০০ কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পার হয়েছে; তবে ইরান থেকে কোনো তেল রপ্তানি হয়নি।
গালিবাফ আরও বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অঞ্চলটির কোনো অবকাঠামো নিরাপদ থাকবে না। এর আগে চলতি মাসেই তিনি সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো ও সম্পদ ইরানের পাল্টা হামলার মুখে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন গালিবাফ। ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইরানের শর্ত গ্রহণযোগ্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে জলপথটির ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বন্ধ করতে হবে। এরপর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচিত নতুন কিছু প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরবেন। তেহরান এখন ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
গালিবাফ আরও বলেন, আকাশপথ বা বাণিজ্যিক অবরোধের মতো চাপের মুখেও ইরান পিছু হটবে না। যেকোনো হুমকি বা ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ জবাব দ্রুত দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যে জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে মঙ্গলবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে ছিল; সেপ্টেম্বর মাসে এর দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









