তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলাকে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পণ্যই কিনবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির লাভের অর্থ দিয়েই এসব পণ্য কেনা হবে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে এইমাত্র জানানো হয়েছে যে আমাদের নতুন তেল চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা যে অর্থ পাবে, তা দিয়ে তারা শুধুমাত্র আমেরিকায় তৈরি পণ্যই কিনবে।’
তিনি আরও জানান, এসব পণ্যের মধ্যে কৃষিপণ্য, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার মার্কিন জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস রাইট এ ঘোষণা দেন।
এ ঘোষণার এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতারা ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে বাজারজাত করতে রাজি হয়েছেন।
মিয়ামিতে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস আয়োজিত এক জ্বালানি সম্মেলনে ক্রিস রাইট বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে আসা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারজাত করতে যাচ্ছি। প্রথমে মজুত থাকা তেল এবং পরে দেশটির উৎপাদিত সব তেল অনির্দিষ্টকালের জন্য আমরাই বিশ্ববাজারে বিক্রি করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও বলেছেন, এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চভবন সিনেটে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল খাত বিশৃঙ্খলার দিকে ঝুঁকে পড়ুক— এমনটা আমরা চাই না। এ কারণে দেশটির তেল উত্তোলন, বিপননসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।’
ব্রিফিংয়ে রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে ‘ঢেলে সাজানোর’ উদ্যোগ নিয়েছে। এটি হলো ভেনেজুয়েলার তেল খাত সংস্কারের ‘প্রথম পর্যায়’। তাই এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এবং সরকারের অনুমোদিত সংস্থা বা কোম্পানি ছাড়া আর কাউকে এই খাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে সাগরপথে তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে এবং সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাবে দেশটির তেল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









