রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। পরে বনানী থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
গত ৩০ জুন খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে জামিন দিয়েছিলেন একই হাইকোর্ট বেঞ্চ। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে পরে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর খায়রুল হককে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী-সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে এগিয়ে গেলে শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। এতে খোয়াইব গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর একে একে তাকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









