বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহর শুরু থেকেই মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে দেশের ২৭ জেলার উপর দিয়ে। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা রাজধানীসহ সারাদেশে।
গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী এবং নানা প্রয়োজনে রাস্তায় বের হওয়া সাধারণ মানুষ। একটু ছায়া ও স্বস্তির খোঁজে মানুষ ‘হাহাকার’ করলেও, আপাতত গরম কমার সুখবর নেই আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, দেশের রাজশাহী জেলার উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও খুলনা বিভাগসহ ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং বিরাজমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে উত্তরপূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং দেশের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যার বুলেটিনে আবহাওয়া অফিস বলেছিলো, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
দেশের অন্যত্র আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘলা এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেনতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, ষাটোর্ধ্ব বয়সী মানুষ, গর্ভবতী এবং যারা ক্যানসার, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা চরম ঝুঁকিতে থাকেন।”
গরমে হিট স্ট্রোকসহ নানা ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, “হাসপাতালগুলোকে আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। রাস্তায় কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত বা অজ্ঞান হয়ে গেলে পথচারীরা কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন, সে বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









