বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

এপ্রিলে সড়ক-নৌ-রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২৬, ০১:২২ পিএম

আপডেট: ০৬ মে ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

এপ্রিলে সড়ক-নৌ-রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু

বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত ও ৭০৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৪৮ শিশু রয়েছে। এই সময়ে দেশে নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে সাতটি। এতে চারজনের মৃত্যু ও ১১ জন আহত হয়েছেন। রেল পথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু ও ১৭ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (৬ মে) প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। 

‎প্রতিবেদনটি বলছে, ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১১৩ জন, যা মোট নিহতের ২৭.৯৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩০.৬৬ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫.২৪ শতাংশ। এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন, অর্থাৎ ১১.৩৮ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাসের যাত্রী ৩০ জন (৭.৪২%), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-লরি-ট্রলি-ট্রাক্টর আরোহী ৫১ জন (১২.৬২%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২৪ জন (৫.৯৪%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৬১ জন (১৫.০৯%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ১০ জন (২.৪৭%) এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (৩.২১%) নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৮টি (৩৬.২৮%) জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৩টি (৪১.৬৮%) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৫টি (৯.৭১%) গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি (১২.৩১%) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

‎‎দুর্ঘটনার ধরন ও সম্পৃক্ত যানবাহন: ‎দুর্ঘটনাসমূহের ৯৭টি (২০.৯৫%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৯৪টি (৪১.৯০%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৬টি (২২.৮৯%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৫২টি (১১.২৩%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৪টি (৩.০২%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

‎দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে: ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ট্যাঙ্ক লরি, সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক ২৫.৯৪%, যাত্রীবাহী বাস ১২.৭৪%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার জীপ ৫.৯১%, মোটরসাইকেল ২৩.২১%, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ১৭%, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ৬.৫২%, রিকশা-বাইসাইকেল ৩.১৮% এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৫.৪৬%।

প্রতিবেদন বলছে, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৫৯টি। (বাস ৮৪, ট্রাক ৯১, কাভার্ডভ্যান ২২, পিকআপ ২৩, ট্রাক্টর ১২, ট্রলি ১৪, লরি ৬, ট্যাঙ্ক লরি ২, সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক ১, মাইক্রোবাস ১৯, প্রাইভেটকার ১৭, জীপ ৩, মোটরসাইকেল ১৫৩, থ্রি-হুইলার ১১২ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩ (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র), রিকশা ১৩, বাইসাইকেল ৮ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩৬টি।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান: ‎দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৩.৫৪%, প্রাণহানি ২৫.২৪%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১১%, প্রাণহানি ১০.৩৯%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২২.৪৬%, প্রাণহানি ২৩.২৬%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩.১৭%, প্রাণহানি ১২.৩৭%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৯১%, প্রাণহানি ৫.৯৪%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ২.৫৯%, প্রাণহানি ২.৯৭%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১২.৭৪%, প্রাণহানি ১৫.০৯% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৩৯%, প্রাণহানি ৪.৭০% ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পুলিশ সদস্য ১ জন, বিজিবি সদস্য ২ জন, শিক্ষক ৬ জন, সাংবাদিক ৩ জন, চিকিৎসক ১ জন, প্রকৌশলী ২ জন, আইনজীবী ২ জন, বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৪ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ১৯ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ২২ জন, ঔষধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৭ জন, মসজিদের ইমাম/খাদেম ৩ জন, পোশাক শ্রমিক ৫ জন, ধানকাটা শ্রমিক ১২ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৩ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৯ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ: ‎১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; ২. ত্রুটিপূর্ণ সড়ক; ৩. বেপরোয়া গতি; ৪. চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; ৫. বেতন-কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা; ৬. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; ৭. তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; ৮. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; ৯. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; ১০. বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি; এবং ১১. গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.