ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত মোট ১৮৫টি কেন্দ্রের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৮ ভোট পেয়েছেন। মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হয়েছে। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ ভোটারের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। প্রথম ভোটের আনন্দ তরুণদের চোখেমুখে দেখা গেছে। জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা। ভোটের পরিবেশ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে ভোট গ্রহণের শুরু থেকে গণনা পর্যন্ত ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলেছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জাতীয় ইস্যু তৈরির উদ্দেশ্যে এসব অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এবার উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। আসনটিতে ভোটের আগে থেকেই সবার নজরের পাশাপাশি উত্তেজনা ছিল। ভোট গ্রহণ শেষে ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। এলাকার ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা ও শঙ্কা ছিল ভোটে অনেক ঝামেলা হবে। কিন্তু কোনো গোলমাল বা দুর্ঘটনা ঘটেনি। ভালোভাবেই ভোট শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে বদ্ধপরিকর ছিল।
বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে তৎপর ছিলেন। চার বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ জন দেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মতে, উল্লেখ করার মতো কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ইতোমধ্যেই বিজিত জামায়াত প্রার্থী এই উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে তুলেছেন। জামায়াতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলতে হয় ,অভিযোগটা পাইকারি হারে করলে তো হবে না, ওটা হতে হবে একদম স্পেসিফিক। এভাবে হাওয়ার মধ্যে ভোট ডাকাতির বয়ান তুললে আগামি দিনগুলোতে ভোট আরো কমতে থাকবে। আর আগের তুলনায় জামায়াতের ভোট কমার আরো কী কী সব কারণ আছে, সেই আমলনামা সবাই জানে। ভোটাররা আরো বেশি জানে।
যাই হোক, এখন ভোটের হিসাব দেখা যাক। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও ১ আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছিলেন ২৩৮,৮৩৬ ভোট। আর জামায়াতের দেলোয়ার হোসেন পেয়েছিলেন, ১৪১,০১৭। তখন জামায়াতের প্রার্থী হেরেছিলেন ৯৭,৮১৯ ভোটের ব্যবধানে। ২৯ অক্টোবর উপ-নির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। আর জামায়াতের একই প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। এবার ভোটের ব্যবধান ১,৩১,৪০৪।
গতবারের চেয়ে এই ব্যবধান প্রায় ৩৩ হাজার বেশি। সাধারণত উপ-নির্বাচনে কম মানুষ ভোট দিতে যায়, সেদিক থেকে বিবেচনা করলে গতবারের চেয়ে এবার বিএনপির ভোট কমেছে ১০ হাজারের মতো, যা স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু অন্যদিকে জামায়াতের ভোট কমেছে সাড়ে ৪৪ হাজার। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই উপনির্বাচনে জামায়তের এত সমর্থক ভোট দিতে গেলেন না কেন? এমনিতেই একটা ন্যারেটিভ প্রচলিত আছে, আর তা হলো যত প্রতিকুলতা থাকুক না কেন জামায়াতের ভোটাররা যেভাবেই হোক নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে ভোট কেন্দ্রে হাজির হয়। তাহলে জামায়াতের এই সাড়ে ৪৪ হাজার ভোটার গেল কই? বিষয়টি খুবই উল্লেখযোগ্য এবং ভোটের রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। জামাত-এনসিপির মতে, গত ৮ মাসেই এই বিএনপি সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। এই অবস্থায় জামাতের ভোট তো বাড়ার কথা ছিল। কমল কেন?
দেশ ও জনগণের রাজনৈতিক দল বিএনপির এই সাফল্য প্রমাণ করেছে বিগত নয় মাসের শাসনামলে জনগণের সমর্থনে মোটেও ভাটা পড়েনি, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আগের চেয়েও অনেক বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম একটি রাজনৈতিক দল। আজ থেকে ৪৮ বছর আগে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্ম হলেও এই ৫৫ বছরে তারা একাধিকবার সরকার গঠন করেছে এবং প্রধান বিরোধীদলের ভূমিকাও পালন করেছে। বিএনপি এখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করছে। স্বাধীনতা অর্জনের পর ৫৫ বছরে বাংলাদেশের যে অর্জন তাতে বিএনপির ভূমিকা কতটুকু- এ প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, বিএনপি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার দল। গণতন্ত্রায়নের দল।
বাংলাদেশের একদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের মাধ্যমে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে বিএনপি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির যে ভিত্তি তা বিএনপি করেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিএনপি ফিরিয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতা-উত্তর দেশে আওয়ামী লীগসহ সবাইকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে বিএনপি। একটা আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, বিশেষ করে আজকের গার্মেন্টস, রেমিট্যান্স প্রাপ্তি- এগুলো জিয়াউর রহমান করেছেন।
পরবর্তীকালে যখন স্বৈরাচার এরশাদ গণতন্ত্র হরণ করেছেন, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছেন। এরশাদের পতন ঘটিয়েছেন। এর প্রতিদান হিসেবে জনগণ তাকে বিজয়ী করেছেন। বিএনপি এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করেছে দীর্ঘ ১৬ বছর সময় ধরে। এই লড়াইয়ে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নানা মিথ্যা অভিযোগ অভিযুক্ত করে সাজা দিয়ে জেলে আটক করে রাখা হয়েছিল। তিনি আপসহীন লড়াই চালিয়ে গেছেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য চরম ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
বাংলাদেশের ৫৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির ভূমিকা অপরিসীম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছেন। বিএনপির আমলে বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির আমলে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়ন হয়, সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু হয়। দেশের উন্নয়নের ভিত্তি শহীদ জিয়াউর রহমানের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের যে গণতন্ত্র ব্যবস্থা সেটা প্রতিষ্ঠা করেন বেগম খালেদা জিয়া।
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের সময়ে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে বিএনপি। ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংগ্রাম করছে, লড়াই করছে বিএনপি। বিএনপির অগণিত নেতা কর্মী প্রাণ দিয়েছেন এই সময়ে। বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী-সমর্থক গুম খুন নিপীড়ন ও নির্মমতার শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ যে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল, তার বিরুদ্ধে বিএনপি মরণপণ আন্দোলন করেছে। গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছিল। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চালিয়েছে, সরাসরি আক্রমণ করেছে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর। কিন্তু বিএনপিকে ধ্বংস করা কিংবা দলটিকে দুর্বল করার সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে বারবার। বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে আছেন জিয়া পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসার পর নয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই নয় মাস সময় একটি সরকারের সাফল্য ব্যর্থতার মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিবেচনায় নতুন সময়ের প্রেক্ষাপটে বিএনপি কতটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে সেটা বিচার বিশ্লেষণ করতে গেলে নানা বিষয় চলে আসে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি নিছক রাজনৈতিক বাক্য নয়; এটি হতে পারে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি শক্তিশালী নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি। কিন্তু কোনো স্লোগান নিজে নিজে সমাজ বদলায় না। স্লোগান তখনই কার্যকর হয়, যখন তা নীতি, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, দলীয় সংস্কৃতি এবং নাগরিক আচরণের অংশে পরিণত হয়। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ যদি শুধু জনসভায় উচ্চারিত হয়, পোস্টারে ছাপা হয় বা নির্বাচনী ভাষণে ব্যবহৃত হয়, তবে তার কোনো ঐতিহাসিক তাৎপর্য থাকবে না। এটিকে মানুষের মননে, প্রশাসনের নীতিতে এবং রাজনৈতিক কর্মীদের চরিত্রে প্রতিফলিত করতে পারলেই এটি নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনৈতিক দর্শনে পরিণত হতে পারে। এখানেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
একজন নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিগত নয় মাসের পারফরম্যান্স আমাদের অত্যন্ত আশাবাদী করেছে। জনগণের স্বার্থ সবার আগে বিবেচনায় রেখে সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তিনি। ইতোমধ্যেই তার বিচক্ষণ নেতৃত্বের প্রকাশ লক্ষ্য করেছেন দেশবাসী। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নেওয়া কঠিন কঠিন সিদ্ধান্ত সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন। তার সহজ সরল জীবন যাপন এবং প্রশাসনিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে সিরিয়াসনেস সবাইকে চমকিত করেছে। তাঁর সৃজনশীল চিন্তাভাবনা আমাদের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেছে।
যদি তিনি বিএনপির প্রধান নেতা হিসেবে অন্যান্য নেতা কর্মীদের যথাযথভাবে গাইড করে একটি সুন্দর সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজটি এগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে বিএনপি অপ্রতিদ্বন্দ্বী একটি অবস্থানে অটুট থাকবে বলে আশা করা যায়। বিরোধী দল নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপি সরকারের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্র এবং সাম্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছে বর্তমান সরকার।
এই সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন আগের তুলনায় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনের বিএনপি প্রার্থীর বিপুল বিজয় তারা উজ্জ্বল প্রকাশ। ষড়যন্ত্র আর অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপির অগ্রযাত্রা রুখে দিতে পারবে না কোনো অপশক্তি। চব্বিশের পরাজিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ভেতরে ভেতরে অনেক ষড়যন্ত্র করছে। বর্তমানে যারা বিরোধী দল হিসেবে সরকারের নানা কর্মকান্ডের সমালোচনা করছেন, তাদের আয়নায় নিজেদের আসল চেহারা দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। বিগত কয়েক মাসে তাদের বিভিন্ন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দেশবাসীর গোচরীভূত হয়েছে। এখন আর কাউকে সহজ ফাঁকি দিয়ে বাজিমাত করা সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশে বিদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাফল্য এবং বিএনপি সরকারের অগ্রযাত্রার চিত্র সুস্পষ্ট সবার সামনে। এখানে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগে তুলে জনগণের দল বিএনপিকে বিপর্যস্ত করতে গেলে বিরোধী দল নিজেরাই নিজের বিপদ ডেকে আনবেন।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও কলামিস্ট


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









