ভুবনখ্যাত গজলশিল্পী পঙ্কজ উদাস পরপারের চিঠি পেয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নাম ছবিতে তাঁর কণ্ঠে গাওয়া অমর গান চিঠঠি আয়ি হ্যায় তাঁকে এনে দেয় বিপুল জনপ্রিয়তা। এরপর ১৯৯১ সালের সাজন ছবিতে সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত “জিয়ে তো জিয়ে” গানটিও তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হয়ে ওঠে।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রের গান, গজল অ্যালবাম ও মঞ্চ পরিবেশনায় তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছান। ‘চান্দি জ্যায়সা রঙ’, ‘না কাজরে কি ধার’, ‘দিওয়ারোঁ সে মিল কর রোনা’, ‘আহিস্তা’, ‘থোড়ি থোড়ি প্যার করো’, ‘নিকলো না বেনকাব’তাঁর কণ্ঠে এসব গজল আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অনুরণিত হয়।
১৯৫১ সালের ১৭ মে ভারতের গুজরাটের জেটপুর শহরে জন্ম পঙ্কজ উদাসের। বাবা কেশুভাই উদাস ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, তবে সঙ্গীতে ছিল গভীর অনুরাগ, তিনি দিলরুবা বাজাতেন। সংগীতঘন পরিবেশেই বড় হয়ে ওঠেন পঙ্কজ।
পরে তাঁকে সংগীতশিক্ষার জন্য পাঠানো হয় রাজকোটের একটি সংগীত একাডেমিতে। প্রথমে তবলা শেখা শুরু করলেও পরবর্তীতে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন উস্তাদ গুলাম কাদির খানের কাছে। উচ্চতর সাধনার জন্য তিনি চলে যান মুম্বাই, যেখানে গওয়ালিয়র ঘরানার বিশিষ্ট শিল্পী নবরং নাগপুরকর-এর সান্নিধ্যে সংগীতচর্চা করেন।
চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠের অভিষেক ঘটে ‘হম তুম অউর ওহ’ ছবির মাধ্যমে। পরবর্তীতে ‘নশা’, ‘পয়মানা’, ‘হসরত’, ‘হামসফর’সহ একাধিক গজল অ্যালবাম তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করে। গজলের আবেগময়তা ও স্বচ্ছ উচ্চারণে তিনি হয়ে ওঠেন এক অনন্য ধারার প্রতিনিধি।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৬ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। জীবদ্দশায় দেশ-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার ও শ্রোতাপ্রীতি অর্জন করেছিলেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









