নারী এশিয়া কাপে আরও একবার ব্যাটিং ব্যর্থতায় শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশ। আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান সংগ্রহ করে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। জবাবে ৪ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
এ নিয়ে লঙ্কানদের কাছে টানা সাত ম্যাচে হারল বাংলাদেশ নারী দল। ২০২৩ সালের মে মাসের পর থেকে তাদের বিপক্ষে জয় অধরা বাংলাদেশের। দুই দলের মোট ১৭টি মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৪টিতেই জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।
এই জয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে বাংলাদেশকে এখন সেমিফাইনালে উঠার জন্য মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
দুবাইয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা সতর্কভাবেই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা ও দিলারা আক্তার প্রথম চার ওভারে ভালো ভিত গড়ে তোলেন। তবে পঞ্চম ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে ১৪ রানে আউট হন জয়িতা। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ২৬ রান করে ফিরে যান দিলারাও। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৯ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা আক্তার ৪০ বল মোকাবিলা করে ৪১ রানের জুটি গড়ে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন। একবার জীবন পেয়েও সোবহানা ৪১ বলে ৩৪ রানের বেশি করতে পারেননি। স্বর্ণার ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ৯ রান। শেষদিকে ফাহিমা খাতুন পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকালে ১১৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে চামুদি প্রবোদা ২১ রানে ৩টি এবং সুগন্ধিকা কুমারি ২২ রানে ২টি উইকেট নেন।
১১৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মারুফা আক্তারের পেস আক্রমণে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। নিজের প্রথম ওভারেই চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দেন মারুফা। তৃতীয় ওভারে দুলাণিকেকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। মাঝের ওভারে দ্রুত আরও দুই উইকেট হারালে শ্রীলঙ্কার ইনিংস কিছুটা থমকে যায়।
তবে একপ্রান্ত আগলে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন হর্ষিতা মাধবী। শেষদিকে মারুফা আবার আক্রমণে ফিরে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেললেও হর্ষিতার ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংস এবং কৌশল্যা নুথ্যাঙ্গনার ১১ রানের কার্যকর সমর্থনে ৪ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা আক্তার ২১ রানে ৩টি উইকেট নিয়ে সেরা বোলার হন। তবে তার বোলিং নৈপুণ্যও দলের হার ঠেকাতে পারেনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









