বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে ফুটবলবিশ্বে আগ্রহের কমতি নেই। ১৯ বছর বয়সেই একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। গত মৌসুমেও তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া—৪৫ ম্যাচে করেছেন ৪২ গোল ও সহায়তা। ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে।
তবে এত কিছুর পরও ইয়ামালকে দলে নেওয়ার সুযোগ পেলেও নাকি আগ্রহী নন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো।
এল চিরিংগিতোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরিনহোকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইয়ামালকে যদি দলবদলের বাজারে পাওয়া যায়, তাকে কি রিয়াল মাদ্রিদে আনতে চাইবেন? পর্তুগিজ কোচের উত্তর ছিল সরাসরি, ‘না।’
তবে ইয়ামালের প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি মরিনহো। বরং এত অল্প বয়সে তার অর্জনের প্রশংসাই করেছেন। মরিনহো বলেছেন, ‘সে অবশ্যই দুর্দান্ত খেলোয়াড়। তরুণ এই খেলোয়াড়ের সম্ভাবনা অবিশ্বাস্য। এত কম বয়সে ইউরোপিয়ান ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু আমাদের এখানে দারুণ একটি দল আছে। আমি কারও জন্য জায়গা তৈরি করব না। এরা এখন আমার খেলোয়াড়। আর আমার খেলোয়াড়েরাই সেরা।’
মরিনহোর এমন আত্মবিশ্বাসের পেছনে অবশ্য কারণও আছে। এবারের গ্রীষ্মে রিয়াল মাদ্রিদ বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে আরবি লাইপজিগ থেকে এনেছে ইয়ান দিয়োমান্দেকে। আইভরিয়ান এই উইঙ্গারের জন্য প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
দুই উইংয়েই খেলতে পারেন দিয়োমান্দে। তার গতি ও আক্রমণাত্মক মানসিকতাই মুগ্ধ করেছে মরিনহোকে।
রিয়াল কোচ বলেছেন, ‘এমন একজন উইঙ্গার খুঁজে পাওয়া সহজ নয়, যে দ্রুত, আক্রমণাত্মক এবং দুই দিকেই খেলতে পারে। তার ওপর সে তরুণ, উন্নতির অনেক সুযোগ আছে এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সামনে অনেক বছর খেলার সময়ও রয়েছে। আমি খেলোয়াড়ের প্রোফাইল এবং সে আমার দলে কী যোগ করতে পারে, সেটাই দেখি। সেই জায়গা থেকে আমি বলেছি, হ্যাঁ, আমি তাকে চাই।’

অন্যদিকে বার্সেলোনায়ও ইয়ামালের দায়িত্ব বাড়তে চলেছে। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর আক্রমণভাগে আরও বড় ভূমিকা নিতে হবে এই তরুণ তারকাকে। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার খেলা নিয়েও অবশ্য প্রশংসা করেছেন মরিনহো।
ফ্লিকের দলকে পছন্দ করেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। তারা দারুণ কাজ করছে। ফ্লিক, দেকো এবং অবশ্যই খেলোয়াড়েরা—আমি যা দেখছি, তা আমার ভালো লাগছে।’ নতুন মৌসুমে তাই লা লিগার লড়াইয়ে ইয়ামাল ও দিয়োমান্দে দুজনকেই ঘিরে থাকবে আলাদা আগ্রহ। একজন বার্সেলোনার আক্রমণের প্রধান মুখ হয়ে উঠছেন, অন্যজনকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
মরিনহো আপাতত নিজের সিদ্ধান্তে অটল—ইয়ামালকে নয়, তার ভরসা দিয়োমান্দে ও নিজের বর্তমান দলেই। এখন মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে, এই সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









