বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় নিজ পরিবারের কেনা জমি দখলের স্মৃতিচারণ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও দখলদারির তীব্র সমালোচনা করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আবাসন খাতের বেহাত ও দখল হওয়া সকল সরকারি জমি তালিকা তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে।
মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এস্টেট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পারিবারিক পটভূমি তুলে ধরে স্মৃতিচারণ কায়গায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, রূপাতলীতে প্রথম শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন আমার বাবা। তখন এই এলাকায় নামকরা স্কয়ার বা অপসোনিনের মতো প্রতিষ্ঠানও ছিল না; একমাত্র প্রতিষ্ঠান ছিল আমাদের ‘বরিশাল ফিশিং লিমিটেড কোম্পানি’ নামের একটি মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন কেনা জমিও গায়ের জোরে দখল করে নেয়। এটাই ছিল তাদের প্রকৃত চরিত্র।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে দুর্নীতি ও দখলদারির চরম শিখর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি এবং দখলবাজিতে তারা রেকর্ড গড়েছিল। তাই আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির তুলনা করে কোনো লাভ নেই। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে বরিশালে কোনো সরকারি সম্পত্তি আমাদের দলীয় নেতাকর্মী দখল করেনি।
রূপাতলী হাউজিং এস্টেটের সরকারি জমি বণ্টন ও দখলের বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বেশ কিছু জমি বাজার বানিয়ে অবৈধভাবে নিজেদের লোকজনের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছিল। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো পুনরায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসব। দখলকৃত যেকোনো অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী রূপাতলী হাউজিং এস্টেটের সার্বিক পরিবেশ ও অবকাঠামোগত অবস্থা খতিয়ে দেখেন। সংক্ষিপ্ত পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে প্রতিমন্ত্রী ঝালকাঠির উদ্দেশে রওনা হন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









