জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসে খেলতে নামার আগে প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) থেকে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলছে এই ক্যাম্প, যেখানে প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দলকে দুই ভাগে ভাগ করে মিরপুরে নিজেদের মধ্যে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়। আগামী বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে দেখা যাবে লিটন দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানদের।
জাপানের উইকেট ও কন্ডিশন মাথায় রেখেই চলছে টাইগারদের প্রস্তুতি। জাপানে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত নারীদের ক্রিকেট ম্যাচগুলোতে দেখা গেছে রান বন্যা—ব্যাটিং সহায়ক উইকেট আর দ্রুতগতির আউট ফিল্ডে ২০০ রানের বেশি সংগ্রহও হয়েছে কয়েকবার। তবে মিরপুরের অনুশীলন ম্যাচে দেখা গেছে পুরোপুরি বিপরীত চিত্র।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আশরাফুল জানান, বৃষ্টির কারণে মিরপুরের আউটফিল্ড ধীরগতির হয়ে পড়েছিল, যার ফলে ব্যাটাররা মনমতো রান করতে পারেননি। তবে জাপানে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা হবে বলে আশাবাদী তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘জাপানে মেয়েদের ক্রিকেটে আমরা দেখেছি প্রচুর রান হচ্ছে। উইকেট ভালো, বলও ব্যাটে আসছে, আউটফিল্ডও দুর্দান্ত। মেয়েদের মাঠ কিছুটা ছোট হলেও ছেলেদের মাঠ একটু বড় হতে পারে। আমাদের প্র্যাকটিস ম্যাচে একসময় মনে হচ্ছিল আরও বেশি রান উঠবে। আশা করছি, আগামীকালের ম্যাচে রান আরও বাড়বে।’’
বৃষ্টির প্রভাবেই মূলত আউটফিল্ড স্লো হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন আশরাফুল। তার ভাষায়, ‘‘বল ওপর থেকে পড়ার কারণে আউটফিল্ড ধীর ছিল, তাই বাউন্ডারি সহজে হচ্ছিল না। জাপানে এমনটা হবে না বলেই মনে হয়, কারণ সেখানকার আউটফিল্ড দ্রুতগতির।’’
উল্লেখ্য, জাপানের যে উইকেটে বাংলাদেশ খেলবে, সেটি প্রস্তুত করার দায়িত্বে আছেন টাইগারদের সাবেক পিচ কিউরেটর গামিনী ডি সিলভা। এ প্রসঙ্গে তার কাছ থেকে কোনো তথ্য বা পরামর্শ পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে আশরাফুল সরাসরি কিছু জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘‘গামিনীর সঙ্গে আমার কথা হয়নি। সালাউদ্দিন ভাই বা ম্যানেজমেন্টের অন্য কেউ হয়তো যোগাযোগ করেছেন। আশা করি সেখানে উইকেট ভালো হবে, সেভাবেই আমাদের ব্যাটাররা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’’
দল দুই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান আশরাফুল—ভালো উইকেটে বড় সংগ্রহ গড়া এবং কঠিন উইকেটে কম রানেও ম্যাচ জেতার কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভালো উইকেটে কীভাবে ২০০ পার করা যায় আর খারাপ উইকেটে ১৪০-১৬০ রান করেও কীভাবে ম্যাচ জেতা যায়—এই দুই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা অনুশীলন করছি। আরেকটি প্র্যাকটিস ম্যাচ এখনো বাকি, আশা করি সেখানে সবাই নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরতে পারবে, ইনশাআল্লাহ্।"
এদিকে এশিয়ান গেমসের ঠিক প্রাক্কালে দলের জন্য এসেছে একটি দুঃসংবাদ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
জানা গেছে, সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে তার প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তার পরিবর্তে স্পিনার আলিস আল ইসলামের দলভুক্তির খবরও ছড়িয়েছে।
সাইফউদ্দিনের চোট প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, ‘‘সাইফউদ্দিনের ইঞ্জুরির কথা শুনেছি, সত্যিই দুঃখজনক। কারণ যেদিন প্র্যাকটিস করল, দারুণ করেছিল—বোলিং, ব্যাটিং সবই ভালো ছিল। পরে প্র্যাকটিস ম্যাচে এসে শুনি, আবার চোটে পড়েছে। এটা সত্যিই কষ্টের। তার জায়গায় আলিসকে নেওয়া হলে দল একটু ভিন্ন ধরনের বোলিং অপশন পাবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে, বিশেষ করে শর্টার ফরম্যাটে সে অনেকদিন ধরেই ভালো করছে—বিপিএল হোক বা ওয়ানডে। সুযোগ পেলে তার জন্য শুভকামনা, আশা করি ভালো করবে।"
এশিয়ান গেমসের পরপরই আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, যার জন্য ইতোমধ্যে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। তবে চোটের কারণে সেই টেস্টেও পাওয়া যাচ্ছে না তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে। তা সত্ত্বেও দলের বাকি পেস বোলিং ইউনিটের ওপর আস্থা রাখছেন আশরাফুল।
তিনি বলেন, ‘‘নাহিদ রানার ইঞ্জুরির বিষয়টি আমরা সবাই জানি, সে রিকভার করছে। যে একটামাত্র টেস্ট আমরা খেলতে যাচ্ছি, সেখানে সে থাকছে না। হয়তো পরে সে ফিরবে, তবে সে সিদ্ধান্ত নেবেন নির্বাচক, অধিনায়ক আর কোচ মিলে।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘বাকি যারা আছেন পেস বোলিংয়ে, আলহামদুলিল্লাহ্ ভালোই করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় নাহিদ রানা না থাকা সত্ত্বেও আমরা দাপট দেখিয়ে একটা টেস্ট জিতেছি, দ্বিতীয় টেস্টেও আমাদের পেসাররা দুর্দান্ত বল করেছে। মাশাআল্লাহ্, যারাই সুযোগ পাচ্ছেন, তারা ভালোই করছেন।’’
দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলি অনিক। দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে ভালো একটি ইনিংস খেলার সুবাদেই তিনি জায়গা করে নিয়েছেন মূল টেস্ট স্কোয়াডে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় অনুশীলনেও জাকেরের ব্যাটিংয়ে ভালো ছন্দ লক্ষ্য করেছিলেন আশরাফুল। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে 'এ' দলের হয়ে খেলেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেছেন এই ব্যাটার।
জাকেরকে নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে আশরাফুল বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্টের সময়ই দেখেছিলাম, সে দারুণ অনুশীলন করছিল, ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল দারুণ ছন্দে আছে। পরে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হলো, ‘এ’ দলে খেলল, এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ‘এ’ দলে খেলে ভালো করেছে। আমি বলব, আগে যে ছন্দে ছিল, সেই ছন্দেই এখনো আছে সে। আশা করি, সুযোগ পেলে ভালো করবে, ইনশাআল্লাহ্।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









