আইন প্রণয়নই সংসদ সদস্যদের (এমপি) মূল কাজ হলেও বতর্মানে অনেকেই তার গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে বেশ আলোচিত। সম্প্রতি সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলাকালে একাধিক এমপির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমপিদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বা অসংলগ্ন বক্তব্য এবং ভাষার ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। তবে সংখ্যায় কম হলেও বেশির ভাগই বিরোধীদলীয় এমপির বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ সদস্যদের এসব আচরণ ও বক্তব্যকে জনসাধারণের একাংশ "বালখিল্য" বা অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফলে এমপিদের এমন বালখিল্য বক্তব্যে জনগণের প্রত্যাশা হতাশ করার পাশাপাশি গুরুত্ব হারাচ্ছে সংসদও।
সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল জাতীয় বাজেট পেশের পর যেখানে দেশের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং জনকল্যাণ নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনার কথা ছিল, সেখানে কিছু এমপির ভাষার ভুল ব্যবহার, ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার দাবি এবং অসংলগ্ন আচরণ সংসদের গাম্ভীর্যকে ক্ষুণ্ণ করেছে। এদের কেউ কেউ মুতা বিয়া, চানাচুরের পুষ্টিগুণ নিয়ে অহেতুক কথা বলেছেন।
এছাড়া নারীদের বোরকা ও পদার মতো স্পর্শকাতর বিষয় এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বক্তব্যের পর আবার দুঃখ প্রকাশ করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়ে এমন সস্তা আলোচনা করেও সময় কাটিয়েছেন অনেক এমপি। অথচ জাতীয় সংসদ চলাকালীন প্রতি মিনিটে গড় খরচ প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে এই ব্যয় দেখানো হয়েছে। মূলত সংসদ ভবন রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, নিরাপত্তা, এবং সংসদ সদস্যদের পেছনে এই ব্যয় নির্বাহ করা হয়।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, সাধারণের করের টাকায় সংসদ সদস্যরা কিভাবে এমন হাস্যরসের আলাপ করে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় করছেন? শুধু কি সংসদ সদস্য হওয়াতেই তাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই!
জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘যারা আইন বানানোর কথা তাদেরকে আইন শেখানোর তাগিদ দেওয়াটাও তো একরকম বেআইনি।’ তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে নিজের ভাগ্য বদলাতে চেষ্টা করতে দেখা যায়। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। তবে জনগণও যদি প্রকৃত সচেতন লোককে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন, একদিন হয়তো এমন কাণ্ড থাকবে না।’
সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে (বাংলিশ) একটি বক্তব্য দেন। দেশের কাঁচা রাস্তা ও ভাঙাচোরা সড়ক নিয়ে বিরোধী দলের এক সদস্যের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা। দ্য রাস্তাস আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন, দিস ইজ ডিউ টু দুর্নীতি। দ্যাট ইউ হ্যাভ সিন, ফ্রম দ্যা প্রিভিয়াস রিজিম।"
তাঁর এই ব্যাকরণগতভাবে ভুল ও মিশ্র ভাষারীতির ১১ মিনিটের বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা শব্দের সাথে অত্যন্ত দুর্বল ও ভুল ব্যাকরণের ইংরেজি মিশ্রিত এই উপস্থাপনা নিয়ে সাধারণ নেটিজেন ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভায় একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন অপেশাদার ও অসংলগ্ন ভাষা আশা করা যায় না বলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে বাজেট অধিবেশনে জনগণের মৌলিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধার দাবি তোলায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদে বাজেট আলোচনার সময় এমপিদের জন্য বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং মানসম্মত পর্দা সরবরাহ করার দাবি জানান। দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সাধারণ বাজেট অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমপিদের ব্যক্তিগত গৃহস্থালি সামগ্রীর দাবিকে অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বালখিল্য আচরণ হিসেবে দেখছেন।
তার এমন প্রসঙ্গের সমালোচনা করে গত বৃহস্পতিবার সংসদে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য এখানে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলবেন। যেখানে জনগণের বিভিন্ন দাবির কথা বলবেন, সেখানে তিনি দাঁড়িয়ে ওয়াশিং মেশিন পেল না মাইক্রোওয়েভ পেল না, কার্টেইন পেল না- সে ব্যাপারে কথা বলবেন! যেখানে বলা হয়, আমরা গাড়ি নেব না, প্লট নেব না।’ ‘আমার মনে হয়, আসলেই গাড়ি আর প্লট যখন ওনারা বাদ দিলেন, তখন ওনাদের বুকের ওপর কত বড় পাথর চাপা দিয়ে বাদ দিতে হলো যে, মাইক্রোওয়েভ আর ওয়াশিং মেশিনের জন্য এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে!’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।’
পার্থ বলেন, একজন এমপির এ বক্তব্য আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি, এই পার্লামেন্টকেও অনেক লজ্জা দেয়।’
তিনি বলেন, ‘গত সংসদ কেবল গণতন্ত্র ও পার্লামেন্টকে হত্যা করেনি, পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি, এখানে গান হয়েছে, অন্য কিছু হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, সরাসরি ওদিকে না গেলেও কিছু কিছু জায়গায় কিন্তু আমরা ওদিকে চলে যাচ্ছি।’সংসদের মান বজায় রাখা উচিত বলে মত দেন এই সংসদ সদস্য।
মিজানুর রহমানের নাম না নিয়ে পার্থ বলেন, ‘আমার ভাই যেহেতু মন্তব্য করেছেন উনি চান, আমি ওনাকে বিব্রত না করে...আগামীতে যদি ওনার পর্দা আর মাইক্রোওয়েভ লাগে, আমি আমার তরফ থেকে ওনাকে একটা মাইক্রোওয়েভ দিতে চাই। এবং আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই, যেন ওয়াশিং মেশিনটা উনি দেন। হোম মিনিস্টার থাকলে আমি বলতাম, উনি যদি পর্দাটা কিনে দিয়ে ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম। তারপরও যদি পার্লামেন্টকে উনি ইমব্যারাস (বিব্রত) না করতেন।’
এর আগে অধিবেশনের অন্য একটি অংশে সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যে কিছু লোকজ উপমা ও অসংলগ্ন শব্দের ব্যবহারে তীব্র আপত্তি ওঠে।
এরই মধ্যে সংসদে চানাচুরের পুষ্টিগুণ তুলে ধরেছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। গত রোববার (১৪ জুন) ২৫-২৬ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি চানাচুরের পুষ্টিগুণ বর্ণনা করেন। তিনি মূলত বিরোধী দলকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘উজিরে খামাখা একজন ছিলেন, তার সঙ্গে টকশো করতে গিয়ে শুনলাম ৮ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার ছাঁয়া বাজেট করেছেন।’
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, ‘বাজেটে চানাচুরের পুষ্টিগুণ জানা সম্পর্কে একটা কমিটি যদি করার জন্য বরাদ্দ রাখা হতো, তাহলে খুব ভালো হতো। চানাচুরের ডিব্বা না চানাচুরের পুষ্টিগুণ। আমি দেখলাম যে, নরমাল গুণ যদি আমরা একটু সার্চ করে থাকি তাহলেই পেয়ে যাচ্ছি চানাচুরের কিছু পুষ্টিগুণ আছে। যে কেউ খুঁজলে পাবেন, ক্যালরি প্রায় ৫০০-৫৫০ কিলোক্যালরি, ফ্যাট আছে ৩৫ গ্রাম, প্রোটিন ১০ গ্রাম, ফাইবার ৫ গ্রাম। সোডিয়াম ৮০০ মিলিগ্রাম, প্রতি ১০০ গ্রাম চানাচুরের মধ্যে। মাননীয় স্পিকার কেন বলছি জানেন? এ বাজেটটা রেখে চানাচুরের মতো খেতে ভালো লাগে কোনো পুষ্টিগুণ নাই। তো বিষয়টা আসলে এরকম নয়।’
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মাওলানা মামুনুল হকের ব্যক্তিগত জীবন ও মুতা বিয়ে নিয়ে মন্তব্য করেন বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক। তিনি মামুনুল হকের গাজীপুরের ঘটনা ও মুতা বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক বড় বড় কথা বলছেন, সরকারের পতন ঘটানোর হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলোও আমাদের জানা।’ এ নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর পর খোন্দকার আবু আশফাকের দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় না আনাই ভালো। সাধারণত যে ব্যক্তি এখানে এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান না, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী। স্পিকার আরো বলেন, মামুনুল হকের ব্যক্তিগত বিষয় সংসদে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তিনি মুতা বিয়ে নিয়ে সাধারণ ব্যাখ্যা দিলেও বলেন, এসব বিষয় নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা করা মোটেও সমীচীন নয়।
এর আগে নীলফামারী-৪ আসনে থেকে নির্বাচিত জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। বাস্তবে তার বাবা-মা এখনো জীবিত আছেন। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গত রোববার (১৪ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম এ দাবি করেন।
এ ছাড়া বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বাজেটের পরিমাণ নিয়ে উদ্ভট কথা বলে সমালোচনার জন্ম দেন। তিনি এক দিনে ৭০টি নোটিশ দেওয়ার দাবি করে বক্তব্য দিলে জবাবে স্পিকার জানালেন “আপনি তো এক দিনে একটি নোটিশ দেবার কথা”! সংসদ সদস্যদের এমন উল্টাপাল্টা বক্তব্যে কমবেশি সবাই বিব্রত।
যদিও সংসদ সদস্যদের এমন অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের বিষয়টিকে স্পিকার অশোভন হিসেবে চিহ্নিত করেন। সংসদে এমপিদের এমন হুটহাট কথা বলা ও অসংলগ্ন আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কঠোর অবস্থান নেন। বিশেষ করে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে অধিবেশনের শুরুতে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বেশ কিছু নির্দেশনা ও রুলিং জারি করেন। তখন তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়। এখানে কথা বলতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে চলতে হবে।" তিনি বক্তব্যে ব্যবহৃত বিতর্কিত ও অসংলগ্ন শব্দগুলো সংসদীয় রেকর্ড থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার ঘোষণা দিয়ে স্পিকার বলেন, "সংসদে অরুচিকর ও অশ্লীল বক্তব্য হোক আমরা চাই না। সংসদ সদস্যদের বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।" তিনি বাজেট অধিবেশন চলাকালে বিধিবহির্ভূতভাবে নোটিশ ছাড়া যখন-তখন পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে কথা বলার প্রবণতা বন্ধ করতে বলেন। একইসাথে সংসদে দীর্ঘ সময় ধরে কেবল লিখিত কাগজ দেখে পড়ার প্রবণতা নিয়েও তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন এবং এমপিদের না দেখে বা পয়েন্ট আকারে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস করার পরামর্শ দেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসে মহান সংসদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক ও কাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য স্পিকার সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, এটা সংসদে না বললে ভালো হতো। কিন্তু এটা বলে এমন কোনো গর্হিত অপরাধও তিনি করেননি। তবে আমি মনে করি, না বললেই ভালো হতো। এতে জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি এমন কোনো বড় জিনিস না। এটি নিয়ে আর তর্ক-বিতর্ক চাই না।’
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীরা সংসদের ভেতরে কোনো বক্তব্য দিলে বা তথ্য প্রকাশ করলে তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে মামলা করা যায় না বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদে একে "সংসদীয় বিশেষাধিকার" বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংসদের ভেতর মিথ্যা তথ্য দিলে কোনো জবাবদিহিতা বা নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৭৮(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে "সংসদে বক্তৃতা-প্রসঙ্গ বা ভোটদানের জন্য কোন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।" অর্থাৎ, সংসদের ভেতর দাঁড়িয়ে কেউ কোনো অসত্য, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য দিলেও দেশের সাধারণ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিচার বা শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়। সংসদ সদস্যরা যাতে কোনো ভয়ভীতি ছাড়া মুক্তভাবে জনগণের কথা বলতে পারেন, সেজন্যই এই বিশেষাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তবে আদালতে বিচার করা না গেলেও, সংসদের ভেতরে অসত্য বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে স্পিকার এবং সংসদের নিজস্ব নিয়মের ওপর ন্যস্ত। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকার ব্যবস্থা নিতে পারেন। এর মধ্যে কোনো সদস্য অসত্য, মানহানিকর বা (অসংসদীয়) বক্তব্য দিলে স্পিকার তাঁর নির্দেশে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সেই অংশটুকু বাদ বা মুছে দিতে পারেন। তখন তা আর সরকারি রেকর্ড বা আইনি দলিল হিসেবে গণ্য হয় না।
এছাড়া বিশেষাধিকার কমিটি কোনো সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদকে বিভ্রান্ত করলে বা মিথ্যা তথ্য দিলে অন্য কোনো সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে "বিশেষাধিকার ভঙ্গের নোটিশ" আনতে পারেন। স্পিকার বিষয়টি সংসদীয় বিশেষাধিকার কমিটিতে পাঠাতে পারেন। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কমিটি উক্ত সদস্যকে তিরস্কার বা সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









