বানের জলে চোখের জলে একাকার ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লক্ষাধিক মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। অতিবৃষ্টি, পাহাড়িঢল ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট এই ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের সাতটি জেলায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারি হিসেবে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। তবে বেসরকারি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ অতিক্রম করেছে বলে দাবি করছেন দুর্গতরা। এদিকে উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগত বৃষ্টিতে নদীর পানি ক্রমশ বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে আরো চারটি জেলায়। এ ছাড়া দেশের দুটি ছাড়া বাকি ছয়টি বিভাগেই নতুন করে অতিবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মানবিক সংকটে বন্যার্তরা: গতকাল সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, গত আটদিন ধরে চলমান ভারি বর্ষণ ও পাহাড়িঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির শিকার উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের জেলাগুলো হলো- খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলার ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হতাহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ছয়, রাঙামাটিতে তিন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪, চট্টগ্রামে ১২, বান্দরবানে দুই এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত মানুষকে জরুরি আশ্রয় দিতে সরকারিভাবে এক হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এরই মধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, দেশের ওই ৭ জেলায় জীবনযাত্রা ভয়াবহভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত, পাহাড়ি, চর, হাওর ও নিম্নাঞ্চলের বহু এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে, কোথাও আবার পাহাড়ধসে প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে রয়েছেন।
পানিতে অবরুদ্ধ চট্টগ্রাম: অনবরত বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলার পর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যা চলছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম জেলা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ এখনো কার্যত পানিতে অবরুদ্ধ। একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে; ভেঙেছে সড়ক, বিচ্ছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর অনেক এলাকায় এখনো ঘরের ভেতর পানি। কোথাও পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। কোথাও নতুন করে বাড়ছে। কোনো এলাকায় মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করলেও নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই।
কোথাও কোথাও পানি কমলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ হয়নি। কোথাও ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে, কোথাও দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছায়নি সহায়তা। বহু গ্রামে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরপানি নিয়ে মানুষ দিন কাটাচ্ছেন। কাঁচা ঘরের দেয়াল ধসে পড়েছে, নষ্ট হয়েছে খাদ্যশস্য। অধিকাংশ নলকূপ এখনো পানির নিচে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় রান্না করা যাচ্ছে না। ভেঙে পড়া কাঁচা ঘর, নষ্ট হওয়া ফসল আর গবাদিপশুর ক্ষতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছে মানুষ। কক্সবাজারে বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি। চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি রয়েছে। কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। মানুষ নৌকায় চলাচল করছে।
অন্যদিকে পানি কমতে শুরু করার পর তিন পার্বত্য জেলার বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্রমেই সামনে আসছে। কোথাও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও ধসে পড়েছে সেতু। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমন-আউশের বীজতলা, জুমক্ষেত ও সবজিক্ষেত। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেকে বাড়ি ফিরলেও অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরো সময় লাগবে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম বড়ুয়া জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে আজ থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে বৃষ্টি কতটা হয়, তার ওপর।
উত্তরাঞ্চলে ফের বন্যার আশঙ্কা: এদিকে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে রংপুর বিভাগের চার জেলায় ফের স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছে ’পানি উন্নয়ন বোর্ড’-এর (পাউবো) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর নিম্নাঞ্চলে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির অবনতিও হতে পারে বলে গতকাল সোমবার সকালে এই পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি সকাল ৯টায় রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে সতর্কসীমায় পৌঁছে বিপৎসীমার ৩৮ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময় অন্য সব নদীর পানির উচ্চতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেগুলো এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
গত রবিবার রাতে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
এ সময় নদীগুলোর নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় পানি কমতে পারে। পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। পাউবো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যেসব স্থান দুর্বল রয়েছে, সেগুলো মেরামতে তাদের কাজ চলমান রয়েছে।
সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে: সুনামগঞ্জে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত আছে। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় নামছে পাহাড়িঢলও। জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর দুটি স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপরে আছে। নদ–নদীতে পানি বাড়ছে। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় যাতায়াতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা ও দুর্গাপুর এলাকার সড়ক আবারও প্লাবিত হয়েছে। ওই স্থানটিতে ঢলের পানি ভাটিতে নামার সুবিধার্থে নিচু করেই নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে পাহাড়িঢল নামলেই ওই অংশটুকু প্লাবিত হয়। গত এক সপ্তাহে ওই স্থান দুবার প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার ডুলরা-ইব্রাহিমপুর সড়কটি প্লাবিত হওয়ায় সীমান্ত এলাকা থেকে জেলা শহরে যাতায়াতকারী লোকজন ভোগান্তিতে পড়েছেন। ওই সড়কে কোনো যানবাহন চলছে না। দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামীণ সড়কও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আবুল খায়ের বলেন, সীমান্ত এলাকার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মানুষজন কৃষ্ণনগর, সৈয়দপুর-ইব্রাহিমপুর সড়ক হয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করেন। এই সড়কের কয়েকটি স্থান প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জে আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে। জেলায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বোর্ডের তথ্য অনুসারে, ছাতক উপজেলা শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও দিরাই উপজেলার মারকুলি এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পানি সাত সেন্টিমিটার ওপরে আছে। ওই দুই স্থানের বিপৎসীমা যথাক্রমে আট দশমিক ৭০ মিটার ও ছয় দশমিক ৫৫ মিটার। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টের সুরমা নদীর পানি সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
এখানে গতকাল সোমবার সকাল নয়টায় পানি উচ্চতা ছিল সাত দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার। রবিবার সকালে একই স্থানে এখানে পানির উচ্চতা ছিল সাত দশমিক ৪০ মিটারে। রবিবার সকাল নয়টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ৭৫ মিলিমিটার। এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় পয়েন্টে পানি বেড়েছে ৬৮ সেন্টিমিটার। এখানে গতকাল সকাল নয়টায় পানির উচ্চতা ছিল আট মিটার। একই পয়েন্টে রবিবার সকালে পানি ছিল সাত দশমিক ৩২ মিটার। এ ছাড়া ছাতক উপজেলা শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে, জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে পানি বেড়েছে নয় সেন্টিমিটার।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখছেন বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে করণীয় ও প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার এক হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনায় পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও এক হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে। জেলার ১২টি উপজেলায় এক হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, জিআর চাল পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।
বৃষ্টির পূর্বাভাস: মৌসুমি বায়ু আরো সক্রিয় হয়ে ওঠায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবারও ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারি বৃষ্টিতে ঢাকা মহানগরীর বেশ কিছু স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর আরো সক্রিয় হয়ে পড়েছে। এ কারণেই নতুন করে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, রবিবার সকাল ছয়টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১১০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ বলেন, আজ দেশের উত্তরাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গতকাল সোমবার সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১০৭ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে কুমিল্লায়। একই সময়ে বগুড়ায় ৩৫, সিলেটে ৩২, ময়মনসিংহে ২৩, নওগাঁয় ১৮, রংপুরে ১০ এবং ঢাকায় ১৩ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত রবিবার রাজধানীতে ১৭৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। একই দিনে দেশের প্রায় সব এলাকাতেই বৃষ্টি হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









