ভরা বর্ষায় দেশজুড়ে ডেঙ্গু এবং হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ বাড়ছেই। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং ৩২৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। এ নিয়ে চলতি বছর রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ৬৫০ জন। আর এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৭ জন, যাদের নয়জনের মৃত্যু হয়েছে চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে আর গত জুন মাসে প্রাণ গেছে সর্বোচ্চ ১৩ জনের। আর চলতি মাসে শনাক্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৪৬ জনে। জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়, যা মাসওয়ারি হিসাবে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গে সারা দেশে মারা গেছে আরো একজন শিশু। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে গত ১২০ দিনে হাম ও ভাইরাসজনিত রোগটির উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫৯ জনে। তাদের মধ্যে হামে আক্রান্ত ছিল ৯৪ জন আর সন্দেহজনক হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে বাকি ৬৬৫ জন।
ডেঙ্গু বাড়ছে ভয়াবহ হারে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত রবিবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন করে ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম বিভাগের। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩২৭ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬১ জন করে সিটি করপোরেশন ছাড়া ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে ৪৩ ও উত্তর সিটির হাসপাতালে ৩৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮, খুলনা বিভাগে ৪৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭, রাজশাহী বিভাগে নয়, রংপুর বিভাগে চার ও সিলেট বিভাগের একজন রয়েছেন। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় ২৩০ জনসহ এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন সাত হাজার ৮০০ জন। মশাবাহিত এই রোগটিতে চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত আট হাজার ৬৫০ জন রোগীর মধ্যে ৬১.১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮.৯ শতাংশ নারী। এই বছর মারা যাওয়া ২৭ জনের মধ্যে ৫৫.৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৪.৪ শতাংশ নারী।
সারা দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজারের মতো।
হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের হাম বিষয়ক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত রবিবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত শিশুটি সিলেট বিভাগের। জেলা হিসেবে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ একজন শিশু মারা গেছে। ওই একদিনে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৮৯৬ শিশু, যাদের ৮৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৩ জন শিশুর শরীরে। এ নিয়ে চলতি বছরে রোগটির উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৩৭৬ জনে আর ১৩ হাজার ৬১৩ জন শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৯৮৯ জনে। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮৭৮ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে। সারাদেশে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ও হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯৫ হাজার ১৯৬ শিশু, যাদের ৯১ হাজার ৪৮৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









