দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে কেলেঙ্কারির শীর্ষে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ইসলামী ব্যাংক লুটপাটের ঘটনা। এর পেছনে সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বারবার উঠলেও ছিল না কোনো প্রমাণ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মো. সাহাবুদ্দিনের নাম। ২০১৭ সালে সরকারের মদদে ইসলামী ব্যাংকের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের একের পর এক ধারা ভেঙে ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয় গ্রুপটি। সেসময় জেএমসি বিল্ডার্স নামে এক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামি ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্ব পান সাহাবুদ্দিন। পরে তাকে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানও করা হয়। দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগপর্যন্ত বহাল ছিলেন সেই পদে।
বিএফআইইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, একাধিক ভুঁইফোর কোম্পানির নামে ব্যাংকের ৭২ শতাংশ শেয়ার দখল করে এস আলম গ্রুপ। সময় সংবাদ জানিয়েছে, তাদের হাতে আসা ৪২ পাতার তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে কিভাবে এসব কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা বের করে ফের শেয়ার কিনেছে জালিয়াত চক্র।
তদন্ত প্রতিবেদনে শুরুতেই উঠেছে মো. সাহাবুদ্দিনের কথিত জেএমসি বিল্ডার্সের দুর্নীতির চিত্র। ব্যাংক থেকে ১০২ কোটি টাকার বেশি অর্থ উত্তোলন করে এই প্রতিষ্ঠানটি, যা দিয়ে পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়। এভাবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য কমপক্ষে ২৪টি কথিত কোম্পানির তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ব্যাংকের বোর্ডে বসে এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোন দিয়ে এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষা করছিলেন সাহাবুদ্দিন। ফলে এক পর্যায়ে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়ে দেশের বৃহত্তম এই ব্যাংকটি।
৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর তদন্ত রিপোর্টটি জমা দেয় বিএফআইইউ। রিপোর্টটি পর্যবেক্ষণ করে চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরে মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয় তারা, যা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়েছে লন্ডনভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান দ্যা লয়েড। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম জানান, তদন্ত রিপোর্ট থাকলেও সাংবিধানিক বাধায় রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো ২১ জনের বিরুদ্ধে ইসলামি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালে মামলা করে ক্ষতিগ্রস্ত ইসলামি ব্যাংক। যেখানে অভিযুক্তদের তালিকায় ১২ নম্বরে আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। পরে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে থাকলে বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলে রাষ্ট্রপতির পদ থকে পদত্যাগ করার পর তাবে সেসব অপরাধের জন্য গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করতে বা তদন্ত করতে কিংবা সাজা দিতে কোনো বাধা আইনে নেই। ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার সংক্রান্ত মামলাটি হাইকোর্টে এখনো চলমান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









