চাকরি আর স্বাবলম্বী হওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার এক অভিনব ফাঁদ পেতেছিল ‘বাংলাদেশ রুরাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ব্রেড)’ নামের একটি এনজিও। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের স্বাক্ষর জাল করে তৈরি ভুয়া চিঠির জোরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক এনজিও এবং বেকার যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। প্রতিশ্রুত প্রশিক্ষণ বা চাকরির নাগাল না পেয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সর্বস্বান্ত হওয়া ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাজেট-১ শাখার যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ ইফতেখার হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির ব্যবহার করে এনজিওটি।
তবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যে চিঠি দেখানো হয় সেটি ভুয়া চিঠি বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
যুগ্ম সচিব ইফতেখার হোসেন দৈনিক এদিনকে বলেন, উল্লিখিত স্মারকে তিনি কোনো চিঠি ইস্যু করেননি। এই ভুয়া চিঠি এবং তার স্বাক্ষর জালের সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বাংলাদেশ রুরাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ব্রেড) ঠিকানা ২৪০/বি, সালিম উদ্দীন মার্কেট, আহমেদ নগর, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬ নির্বাহী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগী লক্ষ্মীপুর জেলা ‘ভয়েস’নামক এনজিওর পরিচালক সামসুল আলম লিটু মিলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও প্রচারণার মাধ্যমে বেকার তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন। অনেকেই এনজিওর নিজস্ব কোনো ফান্ড না থাকার কারণে পার্টনারশিপ হিসেবে কাজ করতে পারবে, এই আশায় ধারদেনা করে এই প্রকল্পে টাকা জমা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে অফিসে যোগাযোগ করলে নানা অজুহাত দেখানো হয় এবং একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পটুয়াখালীর ভুক্তভোগী লায়ন আমিনুল এদিনকে বলেন, ‘‘আমাদের বলা হয়েছিল প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের নিশ্চিত চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো টাকা ফেরতের দাবি জানালে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া আমাদের যে সরকারি চিঠি দেখিয়েছে তা ভুয়া বলে জানতে পেরেছি।”
তিনি বলেন, ‘‘তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এসেও কিভাবে একজন যুগ্ম সচিবের স্বাক্ষর জাল করে চিঠি তৈরি করে!”
এ বিষয়ে এদিনের সঙ্গে আরো কথা হয় গোপালগঞ্জের রীনা, কুড়িগ্রামের সোহাগ, চট্টগ্রামের মনোজ, ফরিদপুরের ফজলুল হকসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তারা বলেন, মন্ত্রণালয়ের ভুয়া চিঠি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়ারও দাবি জানান।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রেড এনজিওর নির্বাহী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এদিনকে বলেন, “আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। তবে ‘ভয়েস’ নামক এনজিওর পরিচালক সামসুল আলম লিটু ভাইয়ের মাধ্যমে কিছু টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কাজ না হলে সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।” জাল চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয় ‘ভয়েস’এনজিওর পরিচালক সামসুল আলম লিটু এদিনকে বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের জন্য আমরা বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা সংগ্রহ করেছি। তবে কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এমনকি অনেকের টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়াও হচ্ছে।’’
চিঠি জালিয়াতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমিও শুনেছি এই চিঠি জাল। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’’
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের মধ্যে কাউকে কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









