‘ভাই, আমরা মারও খেলাম। কোনো প্রতিকারও পেলাম না। এখন উল্টো পালিয়ে বেড়াই। আমাদের প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দিলেন ডিসি। আমরা প্রতিবাদ করলাম তাঁর বিরুদ্ধে। আর পিটিয়ে হাত ভেঙে দিল বিএনপির লোকেরা। এ নিয়ে কর্মসূচি দিল সাংবাদিকরা। ডিসিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই আবার হামলে পড়লেন বিএনপির নেতারা। আমরা আরেক দফা পিটুনি খেলাম। তারপর তো আরিফ মোল্লার ভাইরাল কলরেকর্ড সারা দেশের মানুষই শুনল। সাংবাদিক পেটানোকে যেন তারা পুণ্য মনে করে।
বিএনপি কোনো বিচার না করে দোষীদের আড়াল করতে লোক দেখানো একটা দুঃখ প্রকাশের চিঠি দিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি আগের মতোই আছে।’ কথাগুলো সম্প্রতি শরীয়তপুরে ক্ষমতাসীন দলের হামলার শিকার এক সাংবাদিকের।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি এবং আইনি হয়রানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু বিচ্ছিন্ন ও বড় ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো বড় কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ঝিনাইদহে গত শনিবার আইনমন্ত্রীর অনুষ্ঠানেও ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
বিগত আওয়ামী সরকারের মতো এবারও অভিযোগ ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যারা নিজেদের জীবন বাজি রাখেন, সেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা যেন একশ্রেণির মানুষের কাছে ‘পুণ্য অর্জনের’ শামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে!
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে বড় সূচক। যদি কলম যোদ্ধারাই নিরাপদ না থাকেন, সমাজ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আইনের শাসনহীনতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিই এমন অপরাধ বারবার সংঘটিত হওয়ার মূল কারণ। তারা বলছেন সাংবাদিক নেতারা যখন সরাসরি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী হন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবধারিতভাবেই সংকট তৈরি হয়।
জানা গেছে, রাতের আঁধারে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক মহলের দ্বন্দ্বের জেরে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ঝিনাইদহে আইনমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহের সময় দ্য ডেইলি স্টারের সংবাদদাতা ওমর আলী সোহাগকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ছাত্রদলকর্মীরা তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিক সোহাগ ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরনো ডিসি কোর্ট চত্বরের মুক্তমঞ্চের সামনে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। সোহাগ বলেন, ‘আমি অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে অন্যান্য সাংবাদিকদের মতো আমিও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে যাই। আইনমন্ত্রী কথা বলা শুরু করলে হঠাৎ ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন পেছন থেকে এসে বলেন, ‘তুই এখানে কেন এসেছিস।
তুই সরকারের বদনামের নিউজ করিস, তুই আওয়ামী লীগের দোসর। এখান থেকে বের হয়ে যা।‘ এসব কথা বলার সময় তিনি আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে বের করে দেন। পরে তিনি ছাত্রদলের কর্মীদের আমাকে মারার নির্দেশ দেন। আমি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত বের হয়ে একটি চায়ের দোকানের পাশে দাঁড়াই। পরে সেখানে ছাত্রদলের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী এসে আমাকে মারধর শুরু করে,’ অভিযোগ সোহাগের। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমি ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’ অভিযুক্ত ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন বর্তমানে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের। এ ছাড়া গত সপ্তাহে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরীক্ষায় অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার্থীরা বই দেখে লেখার দৃশ্য ধারণ করায় কলেজ শিক্ষকদের একটি পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে দৈনিক অধিকার ও নাগরিক টিভির স্থানীয় প্রতিনিধিদের মারধর করে। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ও বুম ছিনিয়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা ও গ্রেফতার হলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর আগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘মব’ বা দলবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও শাহবাগ থানার ভেতরে কিংবা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন মফস্বল এলাকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সাংবাদিকদের হেনস্তা করার ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ‘সময় টিভি‘র শরীয়তপুর প্রতিনিধি বি এম ইসরাফিলের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর ডান হাত ভেঙে যায়। এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেন সাংবাদিকরা। এ খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ নিয়ে পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। সেই খবর সংগ্রহ করতে গেলে হামলা চালানো হয় সাংবাদিকদের ওপর। অভিযোগ ওঠে, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেনের ছেলের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এর প্রতিবাদে ও ক্ষোভে সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসককে ঘিরে ধরা নিয়ে উত্তেজনার জেরে পরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন সাংবাদিকরা। এর ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত সাংবাদিকরা হলেন- জাহিদ হাসান (প্রতিনিধি,দ্য ডেইলি স্টার), বিধান মজুমদার (প্রতিনিধি, নিউজ ২৪ ও জাগো নিউজ) এবং মোহাম্মদ বরকত মোল্লা (প্রতিনিধি, দৈনিক এদিন)। অভিযোগ রয়েছে, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে ওই সাংবাদিকদের চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারা হয় এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ ও মামলার চেষ্টা হলেও পুলিশের অসহযোগিতা ও গড়িমসির অভিযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। উল্টো অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দিয়ে লিখিত আবেদন করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগই মামলা হিসেবে পুলিশ রেকর্ড করেনি। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় শরীয়তপুর জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
এর বাইরে গত সপ্তাহে কুমিল্লায় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে যমুনা টেলিভিশনের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের আবদুল্লাহ আল মারুফ হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংবাদে এসেছে। রাজধানীর উত্তরায় সংবাদ সংগ্রহের সময় গ্রিন টিভির আশিক এলাহী, সজীব প্রান্ত ও ক্যামেরাপারসন সৈয়দ মেহেদী হাসান হামলার শিকার এবং তাদের ক্যামেরা, সাউন্ড ডিভাইস ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেলকে উড়ো চিঠির মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তিনি এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বলে সংবাদে প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিক নির্যাতনের এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলামের কাছে। দৈনিক এদিনকে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতন যারা করছে, তারা যত বড় নেতা হোক না কেন- তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সাংবাদিক নেতা হিসেবে আমাদের দাবি, তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ দায়িত্ব সরকারের।‘ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) অপর অংশের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, সব সরকারের সময়ই সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে বর্তমানে এর মাত্রা একটু বেশি। অবশ্য সাংবাদিকদেরও কিছু দায় আছে। সাংবাদিকরা নিজেরাই নিজের শত্রু। তার পরও আমি বলতে চাই, সাংবাদিক যদি অন্যায় করে তাহলে তাদের জন্য আইন আছে, সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তাই বলে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিতে হবে! এটা তো ভয়ানক অন্যায়।
পাশাপাশি এটাও বলতে চাই, কোথাও যদি সাংবাদিক আক্রান্ত হয় তাহলে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ না করলে দুষ্কৃতিকারীরা আরো সুযোগ পায়।’ তিনি বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকরা সবার শত্রু। সংবাদ পক্ষে গেলে বাহবা পান আর বিপক্ষে গেলে হতে হয় নির্যাতনের শিকার। তবে বর্তমানে যা চলছে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এদিনকে বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ, হামলা-মামলা নতুন কিছু নয়। নিউজ কারও পক্ষে গেলে সে বাহবা দেয়। আর বিপক্ষে গেলেই পেটায়। মোট কথা হলো- সাংবাদিকরা কারও কাছেই নিরাপদ নয়। এমনকি সাংবাদিকরা আইনের কাছে গেলেও সহায়তা পায় না। তা না হলে সাগর-রুনি হত্যার বিচার অনেক আগেই হতো। এখন পর্যন্ত কোনো সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার হয়েছে বলে কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। সাংবাদিকদের হাতে হাতকড়া আর কোমরে রশি পরানোর আইন ঠিকই আছে। কিন্তু সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কোনো আইন এখন পর্যন্ত হয়নি।
সাংবাদিক নির্যাতনের কোনো একটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে কেউ আর সাংবাদিক নির্যাতনের সাহস পেত না। এখন দেখি পাতিনেতারাও সাংবাদিকদের ঘোষণা দিয়ে পেটায়। সাংবাদিক যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে তার প্রতিষ্ঠান আছে, প্রেস কাউন্সিল আছে, সর্বোপরি আদালত আছে। ক্ষুব্ধ ব্যক্তি সেখানে বিচার চাইতে পারেন। পেটাবে কেন? দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে একটি সফল বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিজম বিতাড়িত হয়েছে। গণতন্ত্রের সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আশা করি বর্তমান সরকার সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানাবে।’
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সব আমলে সব সময় সরকারের চক্ষুশূল। যখনই কোনো সংবাদ পরিবেশন করা হয় আর কারো বিপক্ষে যায় তখনই দায় দেয় সাংবাদিকদের। এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অন্তরায়। অসাধু কিছু লোকের কারণে সরকারের সব অর্জন ম্লান হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম শরীয়তপুরে তিনজন সাংবাদিক জেলা প্রশাসকের অফিসের মধ্যে হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে আরো একজনের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমার বিশ্বাস, সরকার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে। চাইলেই কোনো সরকার গণমাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে পারে না।
ঢাকা সাব-এডিটর কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক জাওহার ইকবাল খান বলেন, শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না। এ কারণে আজ স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে। আমি এ হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার আশা করছি। সরকার ও বিএনপি এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে আমার বিশ্বাস।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









