'ইনক্লুশন কনফারেন্স অন দ্য বান্ড' নামের প্রযুক্তি মেলায় সাড়া জাগিয়েছে হেডফর্মের তৈরি পূর্ণাঙ্গ মানবাকৃতির বায়োনিক রোবট 'এলফ শুয়ান'। রোবটের মতো অঙ্গভঙ্গি ও চলাফেরার জন্য পরিচিত এক কসপ্লে মডেলের সাথে পারফর্ম করে সে। তাদের এই পারফরম্যান্স এমন একটি দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যের সৃষ্টি করে, যেখানে মানুষ ও যন্ত্রের পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সাংহাইয়ের এই প্রযুক্তিমেলার প্রদর্শনীতে রোবটের পাশে একজন কসপ্লেয়ার একদম রোবটের মতো নিখুঁত অঙ্গভঙ্গি করছিলেন এবং রোবটটিও নিখুঁত মানুষের মতো নড়াচড়া করছিল। ফলে উপস্থিত দর্শকরা বেশ কিছুক্ষণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে কোনটি সত্যিকারের মানুষ আর কোনটি যন্ত্র।
রোবটটিতে বিশেষ সিলিকন বায়োনিক স্কিন ব্যবহার করা হয়েছে (০.৫ মিমি সূক্ষ্মতার সাথে), যার কারণে এর ত্বকে সূক্ষ্ম রগ, শিরা ও ত্বকের ভাঁজ স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। মুখমণ্ডলে ৩০টিরও বেশি ফ্রিডম ডিগ্রি এবং মাইক্রো-মোটর রয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষের মতো হাসি, চোখের পলক ফেলা বা সূক্ষ্ম আবেগ প্রকাশ করা সম্ভব। এই ইভেন্টে 'এলফ শুয়ান ২.০' রিয়েল-টাইম অডিও ও ইমোশনাল মডেলিংয়ের সাহায্যে লাইভ পারফর্ম ও গান গেয়ে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয়।
এই বায়োনিক রোবটকে মূলত অভ্যর্থনা সেবা, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিনোদন শিল্প এবং মানসিক সহায়তার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘ফিজিক্যাল অবতার’ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।
ইনক্লুশন কনফারেন্স অন দ্য বান্ড হলো চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ফিনটেক এবং ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তির একটি বিশ্বব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন। সাংহাই মিউনিসিপ্যাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি ব্যুরো এবং হুয়াংপু ডিস্ট্রিক্ট পিপলস গভর্নমেন্টের সহযোগিতায় ২০২০ সাল থেকে এই বার্ষিক প্রযুক্তি উৎসবটি সফলভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে।এটি মূলত প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং বিভিন্ন শিল্পের বৈশ্বিক নেতাদের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যা সাংহাইকে একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে।২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সংস্করণের মূল হাইলাইটস নিচে দেওয়া হলো:১. সময় ও ভেন্যু২০২৬ সালের ইনক্লুশন কনফারেন্স অন দ্য বান্ড ৯ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত সাংহাইয়ের হুয়াংপু ওয়ার্ল্ড এক্সপো পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে।সম্মেলনটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থেকে শুরু করে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন প্রয়োগ এবং বাণিজ্যিক মূল্য তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
এবারের আয়োজনে চ্যাটবট বা সাধারণ জেনারেটিভ মডেলের চেয়ে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট এবং মানুষের মতো দেখতে বায়োনিক রোবট সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। প্রায় ১৫,০০০ বর্গমিটার জুড়ে বিস্তৃত প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ৩০০টিরও বেশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এখানে
দৈনন্দিন জীবনের আধুনিক এআই চালিত প্রযুক্তির সরাসরি অভিজ্ঞতা নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৬০০ জন বিজ্ঞানী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ এবং উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি মূল ফোরামের বাইরে ৪০টিরও বেশি সাব-ফোরাম বা বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের আসরে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ অংশ হিসেবে ‘এআই আর্ট ফেস্টিভাল’ যুক্ত করা হয়, যেখানে এআই কনসার্ট, এআই কনসেপ্ট আর্ট প্রদর্শনী এবং এআই চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মতো ইভেন্টগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









