ধানের বাজারে দরপতন, অথচ চালের বাজারে নেই তার কোনো প্রতিফলন। মাঠে কৃষক এক মণ ধান বিক্রি করছেন যে দামে, সেই ধান প্রক্রিয়াজাত হয়ে খুচরা বাজারে চাল হিসেবে বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে। কোথাও উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ধান বিক্রি করে কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে, অথচ রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে চালের দাম কমছে না।
বাম্পার ফলন এবং সরকারি গুদামে রেকর্ড ২৩ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুদ থাকার পরও কৃষক ও ভোক্তা দুই পক্ষের কেউই এর সুফল পাচ্ছেন না। ধান খেত থেকে ক্রেতার থলে—এই দীর্ঘ যাত্রায় চালের দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে নানা হাত। কৃষকের খেটে উৎপাদিত ধান থেকে শুরু করে মিল মালিক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চাল যখন ভোক্তার ব্যাগে পৌঁছায়, তখন মুনাফার খাতায় কেজিতে যোগ হয় বাড়তি প্রায় ১০ টাকা।
কৃষকের ঘামঝরানো পরিশ্রমে ফলানো এক কেজি ধান বাজারে এসে নানা হাত ঘুরে যখন সাধারণ ক্রেতার ঘরে পৌঁছায়, তখন প্রতি কেজির দাম গিয়ে ঠেকে ৬৬ টাকায় বা তারও বেশি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় উৎপাদন খরচ, মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফা এবং বাজারের নানা অসংগতির কারণে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, অন্যদিকে বাড়তি দামের চাপ বইতে হচ্ছে ভোক্তাকে। আর এসব মধ্যস্বত্বভোগীদের জন্য ধান চাষ অব্যাহত রাখাই কৃষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেচ, জমি প্রস্তুত, ধান মাড়াই, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ও ফসল পরিবহণ-কৃষির প্রায় প্রতিটি ধাপেই বাড়তি খরচের আশঙ্কা করছেন তারা। কোথাও আমন ধানের জমিতে সেচের প্রয়োজন না থাকায় এখনো প্রভাব পড়েনি, আবার কোথাও ডিজেলনির্ভর সেচব্যবস্থার কারণে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে চর অঞ্চলের কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেশি। তাদের আশঙ্কা, বাড়তি খরচের বিপরীতে ফসলের ন্যায্য দাম না মিললে লোকসানে পড়তে হবে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় গড়ে ৪০ লিটার ডিজেল লাগতে পারে। লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ায় শুধু সেচেই বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে সারের বাড়তি দাম যোগ হচ্ছে। সরকারি ভাবে দাম না বাড়লেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ডিলাররা কেজিপ্রতি ইউরিয়ায় ১০-১১ টাকা, টিএসপিতে ৬ টাকা এবং পটাশে ৪ টাকা বেশি নিচ্ছেন বলে কৃষকদের অভিযোগ। এতে বিঘাপ্রতি সার ও সেচে বাড়তি খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা।
পটুয়াখালী সদরের কালিকাপুর ইউনিয়নের কৃষক হেলাল জানান, ৩৩ শতাংশ জমি চাষ ও সেচে আগে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ টাকা লাগলেও এখন প্রায় ৬ হাজার ২০০ টাকা লাগতে পারে। মরিচবুনিয়ার কৃষক সোহেল খান বলেন, সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন চাষে লাভ থাকবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত আমি। পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম মজুমদার জানান, ৩৩ শতাংশ জমিতে সেচে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হতে পারে।
দিনাজপুরের হিলিতেও সেচ খরচ নিয়ে বিপাকে কৃষকরা। বৃষ্টির ঘাটতির কারণে কিছু জমিতে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনে সেচ দিতে হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, বিঘাপ্রতি সেচে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হতে পারে। পাম্প মালিকরাও ঘণ্টাপ্রতি সেচের মাশুল বাড়িয়ে দিয়েছেন।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ না করলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেওয়া জরুরি, না হলে উৎপাদন খরচ বহন করতে না পেরে অনেক কৃষক আবাদ কমিয়ে দিতে বাধ্য হবেন, যা খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুকের পর্যবেক্ষণও একই রকম; কৃষি উপকরণের দামের ওপর কৃষকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দামও পান না, তার ওপর জ্বালানির দাম বাড়ায় তারা আরও চাপে পড়বেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে ধানের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ার শঙ্কায় আছেন কৃষক, মিল মালিক ও ভোক্তারা। নওগাঁর বদলগাছির কৃষক আবু মূসা বলেন, এখনই সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও জমি প্রস্তুতের খরচ বেড়েছে। এর সঙ্গে ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ ও জমি চাষের খরচ সরাসরি বাড়বে।
ধান কাটা, মাড়াই ও বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। অথচ বাজারে ধানের দাম বাড়ছে না। ফলে আগামী মৌসুমে একই দামে ধান বিক্রি করতে হলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে। কৃষক উৎপাদন করে যদি খরচই তুলতে না পারেন, তাহলে ভালো ফলনও তার জন্য স্বস্তির কারণ হবে না।
নওগাঁর চালকল মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ধানের দাম কম থাকলেও মিলিং খরচ কমছে না। ধান পরিবহন, শুকানো, মেশিন চালানো, শ্রমিক, বিদ্যুৎ ও চাল পরিবহনের খরচ সব মিলিয়ে মিল পর্যায়ে ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব এসব খাতেও পড়বে। ফলে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কেনা হলেও সেই সুবিধা পুরোপুরি চালের দামে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ কম। বরং উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত ব্যয় বেড়ে গেলে মিলগেট পর্যায়ে চালের দাম ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।
রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী কাঁচা বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী চালের ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষক ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসান করবেন, আবার সেই ধান থেকে তৈরি চাল কিনতে আমাদের বেশি দাম দিতে হবে এটা বাজারের স্বাভাবিক চিত্র হতে পারে না। এখন মূল্যস্ফীতির কারণে সংসারের খরচ এমনিতেই বেড়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যদি একের পর এক ধাপ পেরিয়ে চালের খুচরা দামে যোগ হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের ওপর। তাই কৃষকের উৎপাদন খরচ, মিলিং ব্যয় ও ব্যবসায়ীদের প্রকৃত মুনাফা সবকিছুর হিসাব স্বচ্ছভাবে সামনে এনে ধান ও চালের দামের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান। আর এই ব্যবধানের কারনে সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগীরা সবসময় লাভবান হচ্ছেন আর আমরা ক্রেতা ও কৃষকরা রয়ে গেছি উচ্চমূল্যের যাঁতাকলে। আর এভাবেই বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু ধানের বাজারদর নয়, উৎপাদন থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় ও মুনাফার কাঠামো সঠিক পর্যালোচনা না থাকায়, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষক তার প্রতিফলন বিক্রয়মূল্যে পান না। ফলে লোকসান আরও বাড়ে আর বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা চাপানো হয় খুচরা মূল্যে, আর তার বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় ভোক্তাকেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধান খেত থেকে শুরু করে চাল যখন ক্রেতার থলেতে বা ব্যাগে পৌঁছায়, তখন পাইকারি ও খুচরা বাজারের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এর দাম বাড়ে। কৃষকের ধান বাজার ঘুরে যায় মিল মালিকের গোডাউনে। সেখানে চাল উৎপাদনের পর পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার হাত ঘুরে পৌঁছায় ভোক্তার ব্যাগে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতি কেজি চালে মিল মালিকের পকেটে যাচ্ছে ৬-৭ টাকা। পাইকারি বিক্রেতা মুনাফা করছেন ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা। খুচরা বিক্রেতাকে দুই টাকা মুনাফা দিয়ে ক্রেতাকে কিনতে হচ্ছে ৬৬ টাকায়। মিল মালিক ও ব্যবসায়ী মিলে এক কেজি চালে নিয়ে যাচ্ছেন প্রায় ১০ টাকা। চালকল, ধান-চালের পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনুসন্ধানে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১ কেজি চাল উৎপাদনে (কৃষকের ধান চাষ থেকে শুরু করে মিলগেট পর্যন্ত প্রক্রিয়া করে চাল প্রস্তুত করা পর্যন্ত) খরচ বিভিন্ন গবেষণা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৫৬ থেকে ৬০ টাকা বা তার কাছাকাছি পড়ে। এর মধ্যে উৎপাদন খরচের প্রধান হিসাবটি কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, জমি চাষ এবং শ্রমিক বা ধান কাটা-মাড়াইয়ের খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়। কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে তা মিলে নেওয়া, চাল ছাঁটাই (মেশিন ভাড়া), বস্তা বা প্যাকেজিং এবং পরিবহন খরচ যুক্ত হয়।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সব খরচ মিলিয়ে মিলগেটে প্রতি কেজি সরু বা ভালো মানের চালের উৎপাদন বা প্রস্তুত খরচ প্রায় ৫৬ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। অবশ্য সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রাক্কলনে মৌসুমভেদে (বোরো বা আমন মৌসুমে) এই খরচ কিছুটা কম-বেশি (যেমন ৩৭-৩৮ টাকা) হিসাব করা হলেও, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, সারের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে প্রকৃত উৎপাদন খরচ ও মিলগেট খরচ অনেক বেশি। এরপর পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে বাজারে এই চাল সাধারণ ভোক্তাদের আরও বেশি দামে ৬০ থেকে ৮৫ টাকা বা তার বেশি দামে কিনতে হয়।
বর্তমানে খুচরা বাজারে চালের দাম প্রকারভেদে প্রতি কেজি প্রায় ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ৮৫ টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারে মোটা চাল (স্বর্ণা বা অনান্য) প্রতি কেজি প্রায় ৫১ – ৬০ টাকা। মাঝারি বা বিআর-২৮ চাল প্রতি কেজি প্রায় ৬০ – ৬৫ টাকা। সরু চাল (মিনিকেট ও নাজিরশাইল) প্রতি কেজি প্রায় ৭০ – ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থান এবং দোকানভেদে চালের দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দেশের প্রধান ধান উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে নতুন ধান ওঠার পর থেকেই দাম কমতির দিকে থাকে। নওগাঁ, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন মোকামে জাত ও মানভেদে ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে। কোনো কোনো জাতের ধানের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মণপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অথচ এসব ধান থেকে উৎপাদিত চাল রাজধানীর বাজারে জাতভেদে ৬০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ধানের দরপতনের সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বরং কৃষকের কম দামে বিক্রি করা ধান কয়েক ধাপ হাতবদলের পর ভোক্তার কাছে চড়া দামে পৌঁছাচ্ছে। এতে উৎপাদন পর্যায়ে কৃষক এবং ভোগ পর্যায়ে সাধারণ মানুষ এই দুই প্রান্তেই চাপ তৈরি হলেও সরবরাহ চেইনের মধ্যবর্তী স্তরে থাকা ব্যবসায়ীদের ভূমিকা ও মুনাফার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ধান ও চালের দামের ব্যবধানটি বোঝা যায় প্রক্রিয়াজাতকরণের হিসাবেও। কারিগরি হিসাবে, ৪০ কেজি বা এক মণ ধান আধুনিক মিলে প্রক্রিয়াজাত করলে গড়ে প্রায় ২৬ কেজি নিট চাল পাওয়া যায়। বাকি অংশ থেকে কুঁড়া, তুষ, ভাঙা চালসহ বিভিন্ন উপজাত পাওয়া যায়, যেগুলোও আলাদা মূল্যে বিক্রি হয়। বর্তমান মাঠপর্যায়ের দামের হিসাবে, এক মণ ধান ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ওই এক মণ ধান থেকে পাওয়া প্রায় ২৬ কেজি চালের খুচরা মূল্য, কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮৫ টাকা হিসাবে, দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৫৬০ থেকে ২ হাজার ২১০ টাকা। অর্থাৎ কৃষক এক মণ ধান বিক্রি করে যে অর্থ পাচ্ছেন, তা দিয়ে ওই ধান থেকে উৎপাদিত ২৬ কেজি চালও কিনতে পারছেন না।
বিশেষ করে কম দামে ধান বিক্রির এলাকাগুলোতে ব্যবধানটি আরও বড়। অবশ্য ধান থেকে চাল উৎপাদনের পর মিলিং, শ্রম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যয় যুক্ত হয়। কিন্তু ধানের দর যখন উৎপাদন খরচের নিচে নেমে যায়, তখন একই সময়ে চালের খুচরা দাম কেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না সেটিই এখন বাজারের বড় প্রশ্ন।
দিনাজপুরে বর্তমানে জিরাশাইল ও কাটারি জাতের ধান প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, গত বছরের একই সময়ে এসব জাতের ধানের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মণপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত দর কমেছে। মিলার ও আড়তদারদের পক্ষ থেকে ধানের আর্দ্রতা, মান এবং বাজারে চালের চাহিদাকে দামের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, নতুন ধান বাজারে ওঠার সময় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে পাইকার ও মিলাররা কম দামে ধান কিনছেন।
এদিকে হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও নাজুক। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জের নিকলী ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানীয় হাটে আউশ ও মোটা জাতের ইরি ধান ক্রেতার অভাবে ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা মণ দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ধানের মান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিকে সামনে রেখে পাইকাররা দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। অনেক কৃষকের হাতে ধান সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে ঘরে ধান রেখে অপেক্ষা করার সুযোগ না থাকায় তারা তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে কম দামেই ধান বিক্রি করছেন। অথচ ঢাকার খুচরা বাজারে এই মোটা চালই ‘স্বর্ণা’ বা ‘ইরি’নামে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অর্থাৎ কৃষকের বিক্রয়মূল্য ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। অপরদিকে কুষ্টিয়ার খাজানগর, যশোর ও চুয়াডাঙ্গার বাজারেও একই চিত্র। সেখানে বিআর-২৮ ও পাইজাম জাতের ধান প্রায় ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা মণ দরে লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয় বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কুষ্টিয়ার বড় অটো রাইস মিলগুলোতে ধানের সরবরাহ থাকলেও ধানের কম দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালের দাম কমছে না। ফলে পাইজাম ও বিআর-২৮ চাল ঢাকার বাজারে পৌঁছানোর পর কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৮ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।চালের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নওগাঁয় গত কয়েক সপ্তাহে ধান ও চালের দাম কমেছে। চালের দাম কমায় ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ধানের দরপতনে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় চালের সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি আমদানিকৃত চালের মজুত থাকায় নওগাঁর মোকামে পাইকারি বেচাকেনা কমেছে। এতে মিলগুলোতে চাল জমে থাকায় নতুন করে ধান কেনার আগ্রহও কমেছে মিলারদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আউশ ধানের মধ্যে পারিজা ও ব্রি ধান-৪৮ প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই ধান বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়। কাটারি ধান এখন প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা।
গত বছর এ সময় দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। জিরা ধানের দাম নেমে এসেছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়; গত বছর যা ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। নওগাঁর মৌসুমি ধান ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান বলেন, গত বছর পরে ধানের দাম এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এবার ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় ধান কিনছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, নওগাঁয় চালের চাহিদা কম থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ধানের পাশাপাশি পাইকারি বাজারে চালের দামও কমেছে। বর্তমানে জিরা চাল ৫৬ থেকে ৬১ টাকা, কাটারি চাল ৭৩ থেকে ৭৪ টাকা এবং স্বর্ণা চাল ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব চালের দাম কেজিতে প্রায় ২ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, গত বছর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চাল আমদানি হওয়ায় দেশে এখন পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে বাজারে চালের চাহিদা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে ধানের বাজারেও। তিনি বলেন, ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে আউশ মৌসুমেও সরকারের ধান বা চাল কেনা প্রয়োজন। এতে কৃষকের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খোন্দকার বলেন, দেশে বর্তমানে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই আগামী তিন মাসে চালের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কেউ অবৈধভাবে চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধানের কম দাম নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগের কথাও জানান তিনি।
এ বছর আউশের ভালো ফলন হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই স্বস্তিতে থাকার কথা কৃষকের। কিন্তু নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম গ্রামের রাসেল হিসাব করছেন তার লোকসানের। এ বছর প্রায় ১১ বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন রাসেল।
প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১২ থেকে ১৬ মণ। (১ মণ = ৩৭ দশমিক ৩২ কেজি।) বর্তমানে প্রতি মণ ধানের গড় বাজারদর ৭২৫ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি বিঘায় তার আয় প্রায় ১১ হাজার টাকা। রাসেল বলেন, এই দামে ধান বিক্রি করলে প্রতি বিঘায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান হবে। রাসেলের মতো সারা দেশের অনেক আউশ ধানচাষি ভালো ফলনের পরও লোকসানের মুখে পড়েছেন।
এক বছর আগের তুলনায় এবার ধানের দাম প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কমেছে। অথচ উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কৃষকরা বলছেন, কম দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সার, কীটনাশক ও সেচের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে অনেকে ভেজা ধানও অর্ধেক দামে বিক্রি করছেন। চালকল মালিকদের মতে, বাজারে চাহিদা কমার মূল কারণ হলো ধানের বড় মজুত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অতিরিক্ত চাল আমদানির পর এই মজুত তৈরি হয়েছে।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে আউশ ধান প্রতি মণ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। মহাদেবপুরের মৌসুমি ধান ব্যবসায়ী শামসুর রহমান বলেন, গত বছর আউশ ধানের দাম ছিল প্রতি মণ ১ হাজার টাকা। পরে দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। আর এ বছর মাত্র ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান কিনছি। কম দামের কারণ ব্যাখ্যা করে শামসুর বলেন, বড় মিল মালিকেরা এখন ধান কিনছেন না। এ কারণেই দাম কমে যাচ্ছে। বগুড়ার শেরপুর উপজেলা থেকে মহাদেবপুরে আসা চালকল মালিক নুরুল ইসলাম জানান, তার গুদামেও এখনো বিপুল পরিমাণ ধান অবিক্রীত আছে। তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া, পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় ধান শুকাতেও সমস্যা হচ্ছে।
উৎপাদন খরচ বেশি ও বাজারদর কম, এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে নওগাঁ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সোহাগ সরকার বলেন, এ বছর আউশ ধানের উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি ২৬ থেকে ২৭ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরে কৃষক লোকসানের মুখে পড়ছেন। তিনি বলেন, আমরা উৎপাদন খরচের তথ্য সরকারকে জানাই এবং প্রতি সপ্তাহে বাজারদরের তথ্যও পাঠাই। সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া স্থানীয় বাজারে আমরা নিজেরা দাম নির্ধারণ করতে পারি না।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক সুকান্ত পাল বলেন, প্রতি মণ আউশ ধান উৎপাদন করতে অন্তত ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, অথচ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি মণ ৯৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে। তিনি বলেন, বেশি দামে সার কেনা, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সেচের বাড়তি খরচ তার মতো কৃষকের জন্য বড় সমস্যা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে সারা দেশে আউশ চাষ হয়েছিল ১১ দশমিক ৫৯ লাখ হেক্টর জমিতে। ওই বছর ধান উৎপাদন হয়েছিল ৪৫ লাখ টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আউশ চাষের জমির পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৬১ লাখ হেক্টরে। ওই বছর উৎপাদন হয় ৪৩ দশমিক ৫ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আউশ চাষের জমির পরিমাণ আরও কমে ৯ লাখ ৫৯ হাজার হেক্টরে দাঁড়ায়। ওই বছর উৎপাদন হয় ৪১ দশমিক ৯১ লাখ টন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে আউশ চাষের জমির পরিমাণ আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টরে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪০ লাখ টন। গত পাঁচ বছরে দেশে আউশ চাষের জমির পরিমাণ কমেছে ২ লাখ ১৪ হাজার হেক্টর। এর ফলে উৎপাদন কমেছে ৫ লাখ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে আউশের প্রধান জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান-৪৮, ব্রি ধান-৫৬, ব্রি ধান-৬৫ এবং বিনা ধান-১৯। এসব জাতের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ১৫ টন।
এদিকে সরকার চালকল মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দুই লাখ টন চাল কিনছে। ইতোমধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার টন চালের বরাদ্দপত্র দিতে তালিকা করা হয়েছে। এই বাড়তি ক্রয় সরকার করছে চালকল মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। প্রায় দেড়শ আবেদনের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের আধা-সরকারিপত্র বা ডিও লেটার সংযুক্ত আছে। এই প্রক্রিয়ায় কৃষকের পর এবার ভোক্তাও ক্ষতির মুখে পড়ছে। গত বোরো মৌসুমে চালকল মালিকরা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে মজুত করেছেন। তা পরিমাণে এত বেশি যে, বাজারে সরবরাহ করে এবং নির্ধারিত পরিমাণে সরকারি গুদামে চাল দিয়েও উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে।
সরকার এই বাড়তি চাল কিনতে রাজি হওয়ায় তা সরাসরি বাজারে আসছে না। এই চাল বাজারে এলে খুচরা পর্যায়ে দাম ভোক্তার জন্য আরও সহনীয় হতো। বোরোর পর আউশ ধান কৃষকের ঘরে উঠেছে। আমন ধান মাঠে। কিন্তু সরকার এখন চালকল মালিকদের কাছ থেকে বোরো ধানের চাল কিনছে। এই ক্রয় সরকারের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে। বোরো মৌসুমে সরকার পাঁচ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও এক লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ধান সংগ্রহ হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ টন। সেদ্ধ চাল ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টন এবং আতপ চাল এক লাখ সাত হাজার ৬৪৭ টন। অর্থাৎ ধান এবং চাল লক্ষ্যমাত্রার বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের একটা অংশ বড় কৃষকরা দিয়েছেন। বাকি সব সরবরাহ করেছেন চালকল মালিকরা।
খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে মোট খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৭ টন। সরকারি গুদামের কার্যকর সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় ২২ লাখ ৯৫ হাজার টন। অর্থাৎ, সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৪৪ হাজার টন বেশি মজুত হয়েছে। এই অবস্থায় আরও প্রায় দুই লাখ টন চাল কেনার আয়োজন শুরু হয়েছে। আগে চাল কেনা হয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ২৯৩ টন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৭টি। বিপরীতে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধিত কৃষক ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৩ জন। নিবন্ধিত চালকল ছয় হাজার ৩০১টি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









