হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসবের আয়োজন হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। আসন্ন দুর্গাপূজায় শান্তিপুর্ন ভাবে সম্পন্নের লক্ষে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১ হাজার ৫০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।
দেশের প্রতিটি পুজামন্ডপে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। তা ছাড়া আইন শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি সেচ্ছাসেবকদের ২৪ ঘন্টা নিচ্ছিদ্র পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিমা পাহারায় থাকছে পুলিশ গোয়েন্দা ও বিশেষায়িত বাহিনী। গুজবকারিদের কঠোর হস্তে দমনে সাইবার টীমসহ সকল বিষয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুজবে কান না দিকে জনসাধানের প্রতি অনুরোধ জানিছেন স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, পূজামন্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপটি দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে।
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সভায় পূজাম-পের নিরাপত্তা, প্রতিমা বিসর্জন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এদিকে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগের দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি এক দিন থেকে বাড়িয়ে দুই দিন করেছিল। এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছুটি আরও এক দিন বাড়িয়ে তিন দিন করেছেন। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসী কার্যত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়ে প্রতি বছর পূজাম-পগুলোতে দেওয়া সরকারি অনুদানের পরিমাণ চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করেছেন। সরকারের এসব সিদ্ধান্তের জন্য সনাতন ধর্মের নেতারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
প্রতিটি পূজাম-পের স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানায় যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পূজামন্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা বিকল্প জেনারেটর ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বরাদ্দ দেওয়া অনুদান পূজা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশের সব পূজামন্ডপে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে পূজার সময় সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আজান ও নামাজের সময় প্রয়োজনীয় নীরবতা বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির এই চর্চা অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।
অন্য ধর্মের উপাস্য সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিংবা সম্পাদিত ছবি, ভিডিও বা ঘটনার অপব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হলে দ্রুত সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। তিনি গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের অপতৎপরতার বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে সচেতন যুবসমাজকে সঠিক তথ্য প্রচারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে তা আড়াল না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ডিনায়েল স্টেজে আমরা থাকতে চাই না। কোনো ব্যক্তি আটক হওয়ার পর তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বা না বুঝে ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, কোনো ঘটনার পর শুরুতে কিছুটা ধাক্কা এলেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে মানুষের মনে থাকা ক্ষত কমানো সম্ভব।
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অক্টোবর মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনে টানা সাত দিন ছুটি কাটানোর একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি নির্ধারিত ছুটি, ঐচ্ছিক ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির সংমিশ্রণে গঠিত এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধা মূলত নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন। জরুরি সেবাসমূহ এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।
সরকারি ছুটির পঞ্জিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকছে নির্ধারিত সাধারণ ছুটি। ফলে সব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি দুই দিন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









