ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সর্বজনিন বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লি অবরুদ্ধ হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঠেকাতে পশ্চিম বঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লিতে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন ও ককরোচ পার্টির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, বোরা, ধ্রুবসহ ৫ হাজারের বেশি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে আটক করা হয়েছে।
আন্দোলন ঠেকাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। ইন্টারনেট বন্ধ ছাড়াও ৪০ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে তারা দিল্লিগামী ট্রেন, দিল্লির মেট্রো এবং বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। দিল্লি পুলিশের লক্ষ্য ছিল যন্তর মন্তরে যেন কেউ কোনোভাবে অবস্থান না নিতে পারেন। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে ‘যন্তর-মন্তর: ২.০’ নামে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দিল্লিজুড়ে গতকালের পরিস্থিতি দেখে অনেকেই মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদির মসনদ টলতে শুরু করেছে।
গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দেপাধ্যায়। পুলিশ ভ্যানে বসে মমতা বার্তা দিয়েছেন, ‘দেশ বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান’। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের অভিযোগ, নেত্রী মমতা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। তাই দিল্লিতে বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্নায় বসেন তিনি। সেখান থেকে আটকের পর তুলে নিয়ে যায় প্রিজন ভ্যানে। সঙ্গে আটক করা হয় দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখলেকে।
দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে দিনের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কড়া বার্তা দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, ‘এ সরকারকে বিদায় নিতে হবে।’ গতকাল সকালে এক্সে দেওয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে বিদায় নিতে হবে। এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। এর পরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে।’
বিবিসি জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে পুলিশ কর্মকর্তারা সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, মাথার উপর ড্রোন উড়ছিল। জায়গায় জায়গায় ভারী লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। সেখানে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দিল্লির সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া কিছু সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিসির সাংবাদিক। সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপরও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লিজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দিপকে, ছাত্রনেতা নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। এ ছাড়া চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মানিক সরকার ও পিনারাই বিজয়ন।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ বসানো হয়। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সকালের দিকে পুলিশ প্রথমে সিজেপি নেতাকর্মী ও বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিদের আটক করতে শুরু করে। সকাল ৯টার কিছু পর পুলিশ ধ্রুব রাঠীর গুরুগ্রামের বাসভবনে যায়। পরে তাকে আটক করার খবর আসে। এর কিছুক্ষণ পর জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাব্য কর্ণাটককেও আটক করা হয়। এরপর দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলটির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তাদের আটকের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশের দল মোতায়েন করা হয়েছিল। অভিজিৎ দীপকে আটক হওয়ার আশঙ্কায় আগের রাতেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন। সেই ভিডিওতে তিনি জানান, তাকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হলে সিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা অজিঙ্ক্য শিন্ডে যন্তর মন্তরের কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন।
পুলিশি অভিযানের মধ্যে যন্তর মন্তর পৌঁছাতে না পেরে বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তনের কথাও জানায় এআইএসএ। সংগঠনটি যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লি হাটে কর্মসূচি সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এর কিছুক্ষণ পর সংগঠনটির জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করা হয়। তাকে বহনকারী পুলিশ বাস বিক্ষোভকারীরা ঘিরে রাখে।
বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়া ভারতের বামপন্থী রাজনীতিকদেরও আটক করা হয়। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, এম ভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়ারাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল ও বৃন্দা কারাটকে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর পর পুলিশ হেফাজতে নেয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারা থেকেও ৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ রাতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সকালে তারা বেরিয়ে এলে বাইরে অপেক্ষমাণ পুলিশ তাদের আটক করে। যন্তর মন্তরের আশপাশ থেকেও বিক্ষোভকারী ও স্বাধীন সংবাদকর্মীদের আটক করা হয়।
দিল্লির বাইরেও ধরপাকড়ের খবর পাওয়া যায়। মুম্বাইয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও অ্যাক্টিভিস্ট তুষার গান্ধীকে আটক করে পুলিশ। সিজেপির কর্মসূচির সমর্থনে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে একটি বিক্ষোভে তার যোগ দেয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে আম আদমি পার্টি (এএপি) দাবি করেছে, দলটির নেতা মনীশ সিসোদিয়াকে চণ্ডীগড়ে আটক করা হয়েছে।
ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতায় কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটও সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়া সড়কগুলোয় তল্লাশি, ব্যারিকেড ও নজরদারি বাড়ানোর ফলে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ধরপাকড়ের তীব্র সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার বদলে রাজধানীকে দুর্গে পরিণত করলে সন্দেহ আরো বাড়বে। এনসিপি-এসপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলেও সিজেপি নেতাদের আটকের ঘটনাকে ‘ভুল ও অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেন।অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র কর্মসূচিকে ‘নৈরাজ্যবাদীদের ব্যর্থ প্রদর্শনী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, দিল্লির একটি অংশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হলেও কর্মসূচি সফল হয়নি।
মোদী সরকার কি এক দফার আতঙ্কে?
ককরোচ জনতা পার্টির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতে চলছে নজিরবিহীন ধরপাকড়। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে দিল্লির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলোও। কার্যত লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচাল করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। গতকাল দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে দিল্লি পুলিশ তাদের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। মূলত মো সরকারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। তাদের অভিযোগ, মোদী সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছেন তিনি। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের নামে ভারতের কোটি কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
বিরোধীদের অভিযোগ, যেসব জনগোষ্ঠী মোদির কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না কিংবা বিজেপিকে ভোট দেয় না, তাদেরই বেশি লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি এ বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলমান রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, এসব মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারতো। এবার ককরোচ জনতা পার্টিও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে বড় আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
শুধু দিল্লিতেই নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত কয়েক দিন ধরে ভোট চুরির অভিযোগে কর্মসূচি পালন করছে ককরোচ জনতা পার্টি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। এই জোটে রয়েছে মমতা ব্যানার্জী, অখিলেশ যাদব ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। সম্প্রতি দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে একাধিকবার আটক হন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাদের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। তাই তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে একপর্যায়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। ফলে মোদি সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিক্ষোভ ও পদত্যাগের দাবি উঠছে। এতে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এবারের আন্দোলনকে বেশি সংবেদনশীল মনে করা হচ্ছে। কারণ, শুধু বিধানসভা নির্বাচন নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। এ ক্ষেত্রে সরাসরি মোদি সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করলে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ আরও জোরালো হতে পারে। এতে ভারতের পুরো নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়বে। এমনকি অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার অভিযোগও সামনে আসতে পারে। এরপর আন্দোলন সরকারবিরোধী বৃহত্তর কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব। এমন পরিস্থিতিতেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক বিবৃতিতে ককরোচ জনতা পার্টি তাদের নেতাদের আটকের নিন্দা জানিয়েছে। দলটির অভিযোগ, বিক্ষোভস্থলে নেতাদের পৌঁছাতে বাধা দিতে পরিকল্পিতভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একে চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন উল্লেখ করে আটক নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ভোটাধিকার ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখাই তাদের লক্ষ্য। দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় ও পরিবহনব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আন্দোলনকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে এই বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত কতটা বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। আপাতত ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই মোদী সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দু, বিবিসি, রয়টার্স ও আল-জাজিরা


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









