বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে বিএনপি। এমন বড় একটি নির্বাচনে এই মহাবিজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অটুট ঐক্য। তবে এবার সময় এসেছে নিজেদের মধ্যেই লড়াইয়ের। কারণ গতকাল সোমবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেখানে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে নিজ দলেরই বহু প্রার্থীর সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হতে পারে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীকে। তাই সামনের ইউপি নির্বাচনকে ছোট ভোটে বড় পরীক্ষা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জাতীয় পর্যায়ে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি এবার তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি এলাকায় একক প্রার্থী দিয়ে দলীয় ঐক্য ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে দলটি। কিন্তু সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা, স্থানীয় নেতাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক বিরোধ এবং কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে জটিলতা- এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের প্রায় ৮ মাসের মাথায় গতকাল ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে ইসি। ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। তবে নির্বাচনের সময়সূচির চেয়েও দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে তৃণমূলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সামলানো, স্থানীয় বিরোধ মেটানো এবং প্রতিটি এলাকায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করা। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের পরিকল্পনা করলেও মাঠপর্যায়ে ব্যক্তিগত প্রভাব, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতা সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলতে পারে।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য চারটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, জনসমর্থন, দলের প্রতি অবদান ও ত্যাগ এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী বাচাই ও মনোনয়ন দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির।
কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। কে হবেন একক প্রার্থী, কিভাবে তাঁর জনপ্রিয়তা যাচাই করা হবে, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি করবেন কারা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এসব বিষয়ই এখন বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
কারণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক, স্থানীয় প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ভূমিকা বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তাই দলীয় মনোনয়নের প্রশ্ন ছাড়িয়ে সাংগঠনিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে একই দলের একাধিক নেতা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। বিএনপির ক্ষেত্রেও এই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে ভোট বিভক্ত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের পরও দলীয় বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রার্থী বাছাইয়ের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা। শুধু কেন্দ্রের পছন্দের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। আবার স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করলেও একক প্রার্থী নির্ধারণ কঠিন হতে পারে।
বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে জরিপ, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ এবং প্রাথমিক তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ কাজ তদারকির জন্য গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের একটি কমিটি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন্দ্রের নির্ধারিত মানদণ্ড তৃণমূলের বাস্তবতায় কতটা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে?
সূত্র জানায়, বিএনপির নেতৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতে আগেভাগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়টিও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। সেজন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাকে নিয়ে চার সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে কমিটির পরিধি বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। অন্য বিভাগগুলোর নেতাদের সঙ্গেও একই ধরনের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় নেতাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তালিকা জেলা পর্যায়ে যাচাইয়ের পর অসংগতি পাওয়া গেলে বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা এবং অমীমাংসিত বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।
জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক এদিনকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় গণমানুষের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পৃক্ততা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সমর্থন বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, সে বিষয়েও স্থানীয় নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় নেতারা যতই আইন ও নিয়মের কথা বলুন না কেন, বাস্তবে মনোনয়নবঞ্চিতদের সামলানোই বড় পরীক্ষা বলে বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনা হচ্ছে।
কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন ঘিরে বিরোধের ঝুঁকি বিএনপির জন্য নতুন নয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদ থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে একাধিক নেতা আগ্রহী হতে পারেন। স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা নেতারা মনোনয়ন না পেলে তাঁদের অসন্তোষ দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে এবার দলীয় প্রতীকের বাইরে নির্বাচন হওয়ায় একই দলের একাধিক নেতা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘোষিত একক প্রার্থী নীতি বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু মনোনয়ন ঘোষণা করলেই চলবে না, মনোনয়নবঞ্চিতদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে।
এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিকল্প প্রার্থী রাখা রাজনৈতিক কৌশলের স্বাভাবিক অংশ। নির্বাচন কমিশন কোনো কারণে একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করলে বিকল্প প্রার্থীর প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে একক প্রার্থীর বিষয়ে ঐকমত্য গড়ার পাশাপাশি মনোনয়নসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে। অর্থাৎ প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটি বাস্তব দিককে মাথায় রেখেই এগোচ্ছে বিএনপি।
যদিও বিকল্প প্রার্থী রাখার কৌশল আর একই পদে একাধিক নেতার প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক বিষয় নয় মনে করছেন তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী। কারণ, প্রথমত মনোনয়নসংক্রান্ত জটিলতার মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে দ্বিতীয়টি ভোট ভাগ ও সাংগঠনিক বিভক্তির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োগ কিভাবে হবে, তা দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের চার মানদণ্ডের মধ্যে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও জনসমর্থন যাচাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কোনো নেতা দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করলেও সাধারণ ভোটারদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কম হতে পারে। আবার স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি সাংগঠনিক পদ বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে পারেন। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কার মতামতকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেটিই প্রার্থী বাছাইয়ের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সুপারিশ, সাধারণ মানুষের মতামত এবং মাঠপর্যায়ের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে তা সমাধানের স্বচ্ছ পদ্ধতি প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের সদস্যসচিব নজিমুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাইয়ের জন্য গঠিত কমিটিগুলোকে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতা, দলীয় কর্মী ও বাসিন্দাদের মতামত নিতে বলা হয়েছে। এরপর গোপন প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা। পরবর্তী পর্যালোচনা ও আলোচনার ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।
তবে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তথ্য সংগ্রহের নিরপেক্ষতা এবং সুপারিশের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ধরে নেওয়া যাবে না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি বলে ধরা হবে।
এদিকে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সমস্যা করতে পারেন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা। তাদের ভূমিকা ও অংশগ্রহণই বাড়াতে পারে বড় ধরনের জটিলতা। কারণ বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই দলটির ৮২টি জেলা ও মহানগর সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ৭২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই যেসব এলাকায় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে বা নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ রয়েছে, সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির দায়িত্ব কারা পালন করছেন এবং তাঁদের সুপারিশ কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনায় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রচার, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং ভোটের দিন সমন্বয়ের জন্য সক্রিয় সাংগঠনিক কাঠামো প্রয়োজন।
নির্বাচনের আগে কমিটি পুনর্গঠন করতে গেলে আবার পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তাই প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের মধ্যে সমন্বয় রাখা বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।
দলীয় প্রধানের নির্দেশনা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন
এদিকে গত রবিবার বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের আচরণ নিয়ে আলোচনা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় পর্যায় থেকেই গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রকে নাম পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্র থেকে সরাসরি প্রার্থী চাপিয়ে না দেওয়া এবং প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা এড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে এক সংসদ সদস্য জানান।
এ ব্যাপারে বৈঠক পরবর্তী সময়ে প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপিতে চাঁদাবাজ ও ভূমি দখলকারীদের জায়গা হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশনার কথাও জানিয়েছেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)। মনি বলেন, দলীয় চেয়ারম্যানের এই নির্দেশনার বাস্তবায়নও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ও ন্যায্য প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হলো আইন মেনে প্রার্থী বাছাই ও প্রচার পরিচালনা করা।
অগ্নিপরীক্ষার মাপকাঠি
তবে সবকিছু ছাপিয়ে ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একক প্রার্থী বাছাই, তৃণমূলের মতামত সংগ্রহ এবং সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখা। চার সদস্যের কমিটি ও মাঠপর্যায়ের জরিপ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্যোগ। কিন্তু এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে সুপারিশ যাচাই, মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গে সমঝোতা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জনের ওপর।
তাই শেষ পর্যন্ত শুধু প্রার্থী ঘোষণাই নয়, বরং ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও তৃণমূলের বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









