নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর পদযাত্রায় রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘ইন্ডিয়া জোটের’ ব্যানারে আয়োজিত ‘চলো দিল্লি-মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে বিরোধী নেতারা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে এই প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেন।
পদযাত্রা শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দেন, ‘নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন, সংবিধান সুরক্ষা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, পদত্যাগ করুন, অপরাধ স্বীকার করে অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হন; আপনি ভুল করেছেন, তবে এই ভুলের পেছনের মূল মগজ আপনি নন।’
গতকাল দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে একটি বাসে চেপে যাত্রা শুরু করেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, খড়্গেরা। সঙ্গে ছিলেন নেহাও। বারাখম্বার কাছে বাস থেকে নেমে যান তারা। তার পরে ভিড়ের সঙ্গে হাঁটতে থাকেন। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কনট প্লেস ও মান্ডি হাউসের মধ্যবর্তী সড়কে সাধারণ মানুষ ও প্রতিবাদকারীদের ঢল নামে।
এদিকে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর ডাকা এই পদযাত্রাকে সামনে রেখে সোমবার (১২ অক্টোবর) টানা তৃতীয় দিনের মতো দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ধাতব ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিরোধীরা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে ভারতের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি আনুষ্ঠানিক পিটিশন জমা দেবেন। সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, তাদের আনা অভিযোগের কারণে জ্ঞানেশ কুমার চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা জানি জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না; আমি তাকে সরাসরি বলছি, আপনি সিইসি হিসেবে টিকে থাকতে পারবেন না।’
কংগ্রেসের সদর দপ্তরে এ সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন, সংবিধানের সুরক্ষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। রাহুলের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ‘ভোট চুরি’ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা নেতার স্বার্থের লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার সংগ্রাম। রাহুলের কথায়, ‘গত চার-পাঁচ দিন ধরে ভোট চুরির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন চলছে। তবে এই প্রতিরোধ নতুন নয়। গত ১০-১২ বছর ধরেই এই প্রতিবাদ চলেছে। এখন তা প্রকাশ্যে আসছে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘দিল্লি কি কারাগারে পরিণত হয়েছে?’
অন্যদিকে, তরুণদের রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা দিল্লি পুলিশের কাছে যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভ আয়োজনের তারিখ চেয়ে আবেদন করেছেন। দলের মুখ্য মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে পুলিশকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার চরম আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যন্তর মন্তরে সমাবেশের সময় দেয়া না হলে দিল্লিজুড়ে পুনরায় বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত সরকার। একই সঙ্গে কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর আগে একই ইস্যুতে বিক্ষোভ চলাকালে বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ।
তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য অযোগ্য ও একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হওয়া নামগুলো বাদ দেওয়া।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









