যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের মধ্যে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস জরিপে বেশ এগিয়ে রয়েছেন এবং ২০২৮ সালের নির্বাচনে তিনিই স্পষ্ট ফেভারিট।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে হ্যারিসের পক্ষে সমর্থন ছিল ৩৮ শতাংশ, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের সমর্থন ১৭ শতাংশ, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করটেজের ১২ শতাংশ, পিট বুটিগিজের ১১ শতাংশ এবং জন অসফের শতাংশ।
দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্মানিত হলেও তিনি নিজে আগামীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন তাঁর অভিজ্ঞতা ও শ্বেতাঙ্গ বা কৃষ্ণাঙ্গ নারী ভোটারদের মধ্যে তাঁর বড় আকর্ষণ রয়েছে, আবার কারও মতে তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির এখন নতুন নেতৃত্ব খোঁজা উচিত।

কমলা হ্যারিসের পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পক্ষে এবং বিপক্ষে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের মধ্যে বিভিন্ন যুক্তি রয়েছে।
পরিচিতি ও অভিজ্ঞতা: তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনেটর এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর বিশাল পরিচিতি ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পক্ষে যুক্তি--------------
শক্তিশালী ভিত্তি: ডেমোক্রেটিক পার্টির ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে তাঁর শক্তিশালী সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
তহবিল ও অবকাঠামো সংগ্রহ: জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক, আর্থিক তহবিল সংগ্রহ এবং দলের ভেতরের লজিস্টিক কাঠামো তাঁর আগে থেকেই তৈরি আছে।
রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা: দলের মূলধারার নীতি ও এজেন্ডাগুলোকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে একটি পরিচিত মুখ হিসেবে দেখা হয়।
বিপক্ষে যুক্তি-----------------
নির্বাচনী ইতিহাস: তাঁর আগের নির্বাচনী প্রচারণাগুলোতে (যেমন—২০২০ সালের প্রাইমারি বা পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে) প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার বিষয়টি সমালোচকরা প্রায়ই তুলে ধরেন।
নতুন নেতৃত্বের চাহিদা: দলের একটি অংশ মনে করে, ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের জন্য পুরোনো নেতৃত্ব বাদ দিয়ে নতুন এবং তরতাজা মুখকে সামনে আনা উচিত।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সমালোচনা: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি, অভিবাসন বা বাইডেন প্রশাসনের নানা নীতির দায়ভার তাঁর ওপর বর্তাতে পারে, যা বিরোধী দলগুলোর জন্য আক্রমণের সহজ সুযোগ তৈরি করে।
ভোটারদের মতামত: কিছু অভ্যন্তরীণ জরিপ ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপন্থী বা স্বাধীন ভোটারদের বড় একটি অংশ পরিবর্তন চায়, যা পুনরায় তাঁর জয়ের সম্ভাবনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









