বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের। এর আগে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত হলেও এবার নতুন এক কান্ডে নিজের পাশাপাশি খোদ সরকারকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন তিনি। বিশেষ করে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ফিল্মি স্টাইলে পিস্তল হাতে অংশ নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়ে বিষয়টি এখন টপ অব দ্য কান্ট্রি। যদিও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানকে অনেকে স্বাগত জানালেও, অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান পরিচালনার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাদক নির্মূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার অধিকার একজন জনপ্রতিনিধির থাকলেও, সেই উদ্যোগের নামে তিনি কতটা আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?
ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আইনি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক। ফলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আট মাসের মাথায় বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের কর্মকান্ডে কিছুটা ম্লান হতে চলেছে তার সুদুরপ্রসারী প্ল্যান। প্রতিমন্ত্রীর এ কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পুর্বক প্রতিমিন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
সূত্র জানায়, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা গেছে সামাজিক যোগোযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে।
যদিও এ নিয়ে রোববার প্রতিমন্ত্রী নিজে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তিনি জানান, তার অস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতাদের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল।
তবে এ নিয়ে আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্ত্রের লাইসেন্স বৈধ হওয়া এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেটি প্রদর্শন আইনসম্মত হওয়া এক বিষয় নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫(ক) উপধারার উদ্ধৃত বিধান অনুযায়ী, বৈধ অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে-এমনভাবে তা প্রদর্শন করা যাবে না।
আলোচিত এ ঘটনার একদিন পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। গতকাল রবিবার এ ইস্যুতে জরুরী সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উচিয়ে ধরার ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তে আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রতিমন্ত্রী নিজে পুলিশের মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, সে প্রশ্নে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন পুরাই বেআইনি। তিনি বলেন, সরকার ও মন্ত্রীদের কাজ নির্দেশনা দেওয়া, আইন প্রয়োগ করবে পুলিশ। মন্ত্রীকেই অস্ত্র হাতে অভিযানে নামতে হলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।তাই প্রতিমন্ত্রী যেভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, তা সম্পূর্ন বেআইনি।
এদিকে ঘটনাটির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র আইনের সম্ভাব্য প্রয়োগ ও শাস্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারায় লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলেও দাবি উঠেছে।
যদিও অস্ত্র প্রদর্শন, ভয়ভীতি সৃষ্টি, লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন এবং আত্মরক্ষার দাবি, বিষয়গুলো নিয়ে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদাভাবে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উচিয়ে ধরার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন কেউ কেউ। এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নূরুল হুদা বলেন, প্রতিমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে যাওয়ায় আপত্তির কিছু নেই। তাঁর মতে, আত্মরক্ষা ও শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধের জন্যই বৈধ অস্ত্র দেওয়া হয় এবং প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারেরই অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল।
অপরদিকে প্রতিমন্ত্রী তার নিজের দেওয়া ব্যাখ্যায় দাবি করে বলেছেন, অভিযানে চার-পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ছয়জন সন্দেহভাজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা–২০২৫-এর ২৫ অনুচ্ছার অনুযায়ী, লাইসেন্সধারী ব্যক্তি আত্মরক্ষার জন্য নিজের অস্ত্র বহন বা ব্যবহার করতে পারেন। তবে অন্যের মধ্যে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি হতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।
ফলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না, এর সঙ্গে যে সরকারের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আইনের শাসন ও জবাবদিহির প্রশ্নও জড়িয়ে আছে সেটিও মোটামুটি স্পশ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইন প্রয়োগের নির্ধারিত ক্ষমতা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সমানভাবে জরুরি। কারণ, মাদক নির্মূলে প্রয়োজন আইনের শাসন। তাই মাদক কারবার বন্ধে অভিযান, সীমান্তে নজরদারি, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, মাদক ব্যবসার অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন-সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফলে গেন্ডারিয়ার ঘটনাটি কেবল একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র থাকার বিতর্ক নয়, এটি জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার সীমা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব এবং সরকারের জবাবদিহিরও পরীক্ষা বটে।
জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবির) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা স্পশ্টই ক্ষমতার অপব্যবহারের লক্ষণ। তিনি বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক বা শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়।
তাঁর মতে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যেকোনো নাগরিকের জন্য অপরাধ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর। এমন ঘটনা পুলিশের ওপর আস্থার ঘাটতিরও বার্তা দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযানের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ কি না। বৈধ হলেও একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের যদি এভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হয়, তাহলে পুলিশের কাজ কী?
যোগাযোগ করা হলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ। নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলফনামায় আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা উল্লেখ করেননি কেন-এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অস্ত্রটি নিয়েছেন ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার পর। যখন তিনি এটি নিয়েছেন, তখন হলফনামায় দেখানোর সুযোগ ছিল না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে। অনুচ্ছেদের ‘ক’ উপ–অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বৈধ অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন বা ব্যবহার করা যাবে। তবে অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করে-এমনভাবে সেই অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।
উল্লেখ্য শনিবার বিকেলে ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আসনটির সংসদ সদস্য ইশরাকের ফেসবুক পেজে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভিডিওটি ‘ভাইরাল’ হয়। আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে গতকাল রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘটনার বিষয়ে একটি বিবৃতি দেন ইশরাক।
বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, তিনি ঢাকা-৬ আসনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পাচ্ছিলেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুন মাসে মাদকসংক্রান্ত এক সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।
জনবলসংকট দূরীকরণ ও মাদকের আস্তানাসংলগ্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দেন। তবে তা এখনো প্রক্রিয়াধীন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে আসে।
ইশরাক বলেন, ‘এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’
এর আগে শনিবার রাতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে গাড়ি থেকে নেমেই ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা তখন কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে লাথিও দেন এক দেহরক্ষী।
ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তলটি অস্পষ্ট বা ব্লার করে দেওয়া হয়। তবে ভিডিওর কিছু অংশে অস্পষ্ট করা হয়নি। তাঁর হাতে পিস্তল স্পষ্টই দেখা যায়। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের ফেসবুকে প্রকাশ করা ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। সেখানে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয় শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬; স্থান গেন্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকা।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী অস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নামার পর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। এ সময় এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’ প্রতিমন্ত্রী তখন বলেন, ‘পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে।’
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও ছিলেন তাঁর দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু। একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে একজন দেহরক্ষী এক তরুণকে লাথি দেন। লাথি দেওয়া ব্যক্তি কে, জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা পাভেল শিকদার বলেন, তিনি প্রতিমন্ত্রীর সরকারি দেহরক্ষী।
একই ঘটনায় রোববার পৃথক বিবৃতিতে বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিন্দনীয় কাজের মাধ্যমে কার্যত সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









