কোনো নতুন বড় আর্থিক তহবিল বা ঋণ মওকুফের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছাড়াই গতকাল রবিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শেষ হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সম্মেলন।
ব্যাংককের কুইন সিরিকিট ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে গত ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক যৌথসভায় অংশ নেন প্রায় ১৮ হাজার প্রতিনিধি।
সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং দরিদ্র দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ঋণসংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও, শেষ পর্যন্ত নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য কেবল 'আশ্বাসের বাণী' এবং 'অর্থনৈতিক সংস্কারের তাগিদ' দিয়েই শেষ হলো এবারের সম্মেলন। -সমাপ্ত হওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনা, চ্যালেঞ্জ ও
সিদ্ধান্তসমূহ-
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক অনুযায়ী ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩.১% (যা ২০২৫ সালের ৩.৫% থেকে কম)। তবে ২০২৭ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩.৪% করা হয়েছে।
প্রধান বৈশ্বিক ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
চলমান মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা (তেলের দাম ব্যারেল প্রতি $১০০ ছাড়ানো), উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি।
ঋণসংকট ও রাজস্ব চাপ
নিম্ন আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট রাজস্বের ১৪ শতাংশই চলে যাচ্ছে ঋণের সুদে। আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে রাজস্ব ঘাটতি কমাতে এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন ঝুঁকি
প্রযুক্তি খাতে এআই (AI) প্রযুক্তির ইতিবাচক জোয়ার থাকলেও, সঠিক নীতিমালা ও সুরক্ষা ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া এটি বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতায় সুযোগের চেয়ে ঝুঁকি বেশি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ।
দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পরামর্শ: ধনী দেশগুলোর নীতিমালার কারণে দরিদ্র দেশগুলোতে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায়, তাদের সরকারি ব্যয় কেবল সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তায় সুনির্দিষ্ট করার জন্য স্টক অ্যাডভাইস বা প্রথাগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের সার্বিক মূল্যায়ন ও হতাশার দিক
ব্যাংককের এই সম্মেলন থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধু ঋণের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং ঋণের শর্ত সহজ করা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানোর প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তবে সম্মেলনের শেষ দিনেও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কোনো "নতুন তহবিল" বা "ঋণ মওকুফের" সুনির্দিষ্ট ও কার্যকারী সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে সম্মেলন শেষে দরিদ্র দেশগুলোর সামনে বড় প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই আশ্বাসের বাণী কতটা বাস্তব সহায়তায় রূপ নেবে?
নতুন অর্থের পরিমাণ, সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ এবং অর্থ ছাড়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









