- নৌকা খোঁজার ধুম, দাঁড়িপাল্লা নিয়ে হাঙ্গামা
- পাঠ্যবই বিতর্কে এনসিটিবিতে অস্থিরতা
- বিতর্কের মধ্যেই ১০ কর্মকর্তাকে বদলি
রাজনীতির পটপরিবর্তন আর ইতিহাসচর্চা— এই দুটি যেন উপমহাদেশের রাজনীতিতে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলানোর সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের ইতিহাসেও যে বড় ধরনের রদবদল ঘটে, তা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি চিরচেনা দৃশ্যপট। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু প্রতিটি নতুন প্রশাসনের সাথে ইতিহাস লেখার দৃষ্টিভঙ্গিও যেন নতুন করে ডালপালা মেলে। প্রত্যেক সরকারই ‘সঠিক ইতিহাস’ তুলে ধরার দাবি করে আমূল পাল্টে ফেলে পাঠ্যবই। সমালোচকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তনগুলো বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গবেষণার ওপর ভিত্তি করে হয় না, বরং ক্ষমতাসীন দলগুলোর রাজনৈতিক দর্শন, অর্জন কিংবা আদর্শকে শিক্ষার্থীদের সামনে বড় করে তোলার প্রয়াস হিসেবে কাজ করে। এর ফলে একই ঐতিহাসিক ঘটনা বা চরিত্র একেক সরকারের আমলে একেকভাবে মূল্যায়িত হয়। শিক্ষা গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, পাঠ্যবইকে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে এবং ইতিহাসের প্রতি তাদের আস্থাবোধ কমে যায়। রাজনৈতিক সরকারগুলোর এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শিক্ষাবিদরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী 'জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক কমিশন' গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। যেখানে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা দীর্ঘমেয়াদি পাঠ্যপুস্তক নীতি প্রণয়ন করবেন।
বদলে যাওয়া ইতিহাস
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাঠ্যবইজুড়ে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এবং তাঁর নানা কথা। বিভিন্ন ছলছুঁতোয় তারা ব্যাপকভাবে নিজেদের মতো করে পাঠ্যবইয়ে ঢুকিয়ে দেয় ‘ইতিহাস’। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই সরকার পতনের পর বই থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’উপাধি এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাদ দেওয়া হয়। এমনকি শেখ হাসিনার নামের আগে জুড়ে দেওয়া হয় ‘ফ্যাসিস্ট’শব্দ। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের লেখা এবং তাঁর সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের নানা কথা বইয়ে জায়গা পায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে ইতিহাসও বারবার পাল্টে গেছে। আওয়ামী লীগের আমলে বইয়ে পড়ানো হতো: ‘গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা বদলে লেখা হয়: ‘২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর ২৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।’আর এখন বিএনপি সরকার এসে ইতিহাসের আরেকটি নতুন সংস্করণ যোগ করছে: ‘২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার খবর পেয়ে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিদ্রোহ করে ঘোষণা দেন–‘উই রিভোল্ট’(আমরা বিদ্রোহ করলাম)। এরপর রাত ২টা ১৫ মিনিটে (২৬ মার্চ) ব্যাটালিয়নের সকল বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে তিনি স্বাধীনতা ও যুদ্ধ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার মাধ্যমেই মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ২৭শে মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মেজর জিয়াউর রহমান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তি ফৌজের প্রধান সেনাপতি হিসেবে আবারও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলেও বাড়াবাড়ি করা হয়েছিল, এখনো সেটাই চলছে। কথা হলো, পাঠ্যবইকে নিরপেক্ষ রাখার মতো সৎ ও নিরপেক্ষ শিক্ষাবিদের যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি দলের চাটুকার বুদ্ধিজীবীদের হাতে বইয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পুরনো রোগও আমাদের আছে। এই দুষ্টচক্র থেকে বের হওয়া সত্যিই কঠিন।’
শত সংশোধনীর পরও ভুলের শেষ নেই
এনসিটিবির বিশেষজ্ঞ দল বই সংশোধনের পর আরেকটি প্যানেল তা খুঁটিয়ে দেখে। এরপর শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সবুজ সংকেত পেলে তবেই বই ছাপাখানায় যায়। এনসিটিবির এক কর্মকর্তার অভিযোগ, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন থেকে শুরু করে এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা খরচ হয়, অথচ বইয়ের ভুলগুলো থেকেই যায়। যেমন, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একটানা আট বছর ধরে নবম-দশম শ্রেণির ‘শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা’বইয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল তথ্য পড়ানো হয়েছে। বইটির চতুর্থ অধ্যায়ে বিখ্যাত ‘দ্য রিপাবলিক’বইটির লেখক হিসেবে সক্রেটিসের নাম ছাপানো হয়েছিল। অথচ সক্রেটিস জীবনে কোনো বই-ই লেখেননি, বইটি লিখেছেন প্লেটো। এনসিটিবির সাবেক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ প্রবীর চন্দ্র রায় ঘটনাটিকে শুধুই একটি ‘নজরের ভুল’বলে উড়িয়ে দেন। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর পর ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে এসে ভুলটি সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন করে বিতর্ক শুরু
একটি হাতি তার শুঁড় দিয়ে দুটি হরিণবোঝাই নৌকাকে নদীর তীরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার পায়ের কাছে পিঁপড়া হাঁটছে, আর মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি। দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম পাঠের এই ছবিটির আসল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের ‘এ’ থেকে ‘ই’ পর্যন্ত বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া ইংরেজি শব্দ শেখানো। কিন্তু, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কিছু কর্মকর্তা এখন এই ছবির মধ্যেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতীকের গন্ধ খুঁজছেন। বইয়ের মান বা ছাপার মান ঠিক করার দিকে তাদের কোনো নজর নেই। তারা এখন ব্যস্ত এই তর্কে, হাতিটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির আর নৌকাটি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রতীক কি না। কিছু কর্মকর্তা এমন অদ্ভুত ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন, রিপাবলিকান পার্টির হাতিটি আওয়ামী লীগের নৌকাকে খাদ থেকে টেনে তুলছে!
শিক্ষাবিদরা বলছেন, এনসিটিবির মূল কাজ হলো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য শিক্ষাক্রম ও আধুনিক বই তৈরি করা। কিন্তু একেক সরকার ক্ষমতায় এসে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসের পাতা বদলে দিয়েছে। বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা আবার মন্ত্রীদের মন জুগিয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তারা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বইগুলোতে ৮৮টি নৌকার ছবি খুঁজে বের করে সেগুলো বই থেকে বাদ দেওয়ার কৌশল করছেন।
শিক্ষাবিদ মনজূর আহমেদ বলেন, ‘একশ্রেণির লোক সবকিছুতেই রাজনীতি খুঁজতে চায়। সরকারের উচিত এই নোংরা রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করা। পাঠ্যবইয়ের ছবি বা বাক্যে রাজনৈতিক অর্থ খোঁজার এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার।’ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক পড়াশোনার ভেতরে না টানার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বইয়ে কী থাকবে আর কী থাকবে না, তার নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা উচিত। তা ছাড়া এনসিটিবিতে যাদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে বসানো হচ্ছে, তারা আসলেই বিশেষজ্ঞ কি না, সেটাও যাচাই করা দরকার।
নৌকা খোঁজার ধুম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বইয়ে নদীপথের নৌকার ছবি অনেক আগে থেকেই আছে, কিন্তু এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তার তাতেই আপত্তি। এমনকি ইংরেজি ‘বি’বর্ণের জন্য শিশুদের ‘বার্ড’(পাখি) না শিখিয়ে কেন ‘বোট’(নৌকা) শেখানো হচ্ছে, তারা সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তাদের কিছু সহকর্মীর অন্ধবিশ্বাস– এই ছবিগুলোর মাধ্যমে আসলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক প্রচার করা হচ্ছে। বই তৈরি ও পরিমার্জনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষাবিদ ও কর্মকর্তাদের তারা ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’তকমাও দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ উল্টো প্রশ্ন তুলছেন, পাকা ধানক্ষেত বা কৃষকের ধান কাটার ছবি বইয়ে থাকলেও বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’কেন আলাদা করে আঁকা হয় না?
এনসিটিবির জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির একজন সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক আর বইয়ের এই সাধারণ নৌকা তো এক নয়। এই ছবিগুলো আজকের নয়, বহু বছর ধরেই বইয়ে আছে। গতবারও ছিল। এভাবে যদি প্রতিটি বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে তো শিশুদের পড়াশোনাই বন্ধ করে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নতুন বই আসবে। তখন হয়তো অনেক কিছুই বদলাবে এবং এই বইগুলো আর থাকবে না।
এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের সদস্য মো. ইকবাল হায়দার বলেন, ‘আমরা তো নিজেরাও লিখি না, ছবিও আঁকি না। এবার মন্ত্রণালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) চারজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নেতৃত্বে পাঠ্যবই সংশোধনের দায়িত্ব দিয়েছিল। তা ছাড়া সরকার প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞ কমিটি বানিয়ে দিয়েছে। সবকিছু তাদের কথামতোই হয়েছে। তাদের নির্দেশ ছাড়া এনসিটিবির কারোরই একটি শব্দ বা ছবি বদলানোর ক্ষমতা নেই।’
দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে হাঙ্গামা
সম্প্রতি ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে জ্ঞান অর্জনের চার স্তরের শেষ স্তর বা ‘প্রজ্ঞা’বোঝাতে একটি দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। তা নিয়েই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। কারণ, দাঁড়িপাল্লা হলো জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীক। এই বিতর্কের পর এনসিটিবি বাধ্য হয়ে বইটি ছাপা বন্ধ করে দেয় এবং বাজারে ছাড়া বইগুলো সংশোধন করার ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্তের পর চটেছেন জামায়াতপন্থী কর্মকর্তারা।
এনসিটিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাকিবুর রহমান বলেন, বইয়ের পাঠ্য বিষয়ের সঙ্গেই সংগতি রেখে ছবি বা নকশা করা হয়। এসব ছবি তো গত কয়েক বছর ধরে বইয়ে ছিল, তখন তো কেউ টুঁ শব্দটিও করেনি। এখন হয়তো কেউ ইচ্ছা করে ঝামেলা পাকাতে চাইছে। তিনি আরো বলেন, সরকার নিজেই পরিমার্জন কমিটি করে দিয়েছে। সব কাজ সেই বিশেষজ্ঞ প্যানেলই করেছে। এখানে এনসিটিবির কোনো কর্মকর্তার কোনো হাত নেই।
নৌকার ছবির বিরোধিতা করা এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, দাঁড়িপাল্লার ছবি তো ২০২৪ সালের বইয়েও ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে সেটা বদলে ফেলা হয়। এবার সেটা আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যদি শুধু এই কারণে বই তুলে নিতে হয়, তবে তো নৌকার ছবিওয়ালা সব বইও বাতিল করা উচিত।
সরকার নিজেই চারজন শিক্ষাবিদকে কমিটিতে রেখেছিল, যারা পরবর্তী সময়ে বাকিদের বাছাই করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং আগামী শিক্ষাবর্ষের বই সংশোধন কমিটির সদস্য এস এম হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক সদস্য মোহাম্মদ আবু নাসের তুহু জানান, ছবি নিয়ে ভেতরে ভেতরে কী রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বোর্ড কি আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক পড়াশোনার চেয়ে রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব খুব লজ্জাজনক ব্যাপার। এ নিয়ে আমি আর একটি কথাও বলব না ‘
বিতর্কের মধ্যেই ১০ কর্মকর্তাকে বদলি
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বিতর্কের বদলি নিয়ে অস্থিরতা চলছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)। ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আরো ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর আগে বিতর্কের জেরে সংস্থাটির এক গবেষণা কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে এনসিটিবির সহযোগী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান) ড. মোহাম্মদ কামরুল হক ভূঞাকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক (বিশেষজ্ঞ-গণিত) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক (বিশেষজ্ঞ-শিক্ষা) মো. আহসানুল আরেফিন চৌধুরীকে যশোর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এবং সহযোগী অধ্যাপক (ইসলামিক আদর্শ) ড. মো. আবু হানিফকে রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যাপক (ইতিহাস) রেজাউল করিমকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক (প্রাণিবিদ্যা) ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন মজুমদারকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে, সহকারী অধ্যাপক (সমাজকল্যাণ/সমাজকর্ম) মাহমুদ বিন আমিনকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) ও বিশেষজ্ঞ আফসানা আইয়ুবকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে এবং সহকারী অধ্যাপক এসএম আসাদুজ্জামানকে লালমনিরহাট সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।
আদেশে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওই দিন থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। এর আগে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিতর্কের মুখে বই থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর গত রবিবার এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে বদলি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই কর্মকর্তাকে বদলির এক দিনের মাথায় এনসিটিবির আরো ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো। তবে নতুন করে এই ৯ কর্মকর্তার বদলির সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের দাঁড়িপাল্লা বিতর্কের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









