ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ তিন দফা দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী ঢাকার মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়া, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র অস্থিরতা ও সংঘাত। টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলনে নেমে গতকাল মঙ্গলবারও দিনভর রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।
কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষে জড়িয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে ঢাকার মিরপুরে একজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে আহত করেন শ্রমিকরা। তিনিসহ তিন জেলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধে দিনের বিভিন্ন সময় সাভার-আশুলিয়ায় ঢাকা-আরিচা, গাজীপুর-চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষে গাজীপুরের আরো অন্তত ৬০টি ও আশুলিয়ার ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে ১৭ জন, গাজীপুরে সাতজন, ঢাকা মহানগরীতে ৩৩ জন ও সাভারের আশুলিয়ায় চারজনসহ আরো ৬১ জনকে নতুন করে গ্রেফতারের পর পুলিশ বলছে, তারা শ্রমিক নন, শ্রমিকের ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নাশকতাকারী।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা বলছেন, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, তাঁদের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণের ঘোষণা দিতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে বেতন বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে শুধু বেতন বাড়ালেই হবে না, পণ্যের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। আর ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াত শ্রমিকদের অসহিষ্ণুতা ও মারমুখী হয়ে উঠার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। বিএনপি সরকারের আট মাসের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আভাস মিলেছে সরকারের পক্ষ থেকে। বিরোধী দলও এমনটিই চাইছে।
১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও সদস্যদের শরীরে থাকা বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি নজরদারিও করা হচ্ছে। গতকাল বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং রায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আশুলিয়া, মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। জননিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল ও শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মিরপুর: সকালে রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। পল্লবী থানার মো. সাইমন নামের ওই পুলিশ সদস্য রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। তাঁরা পুলিশ সদস্য সাইমনের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ওই রাস্তার কাছের একটি বাসার বারান্দা থেকে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ওই ভিডিও ধারণ করেন একজন নারী। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই নারী বলেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল। এ সময় মিরপুর-১২ নম্বরে একটি সড়কে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তাঁরা আন্দোলনকারীদের মাঝখানে পড়ে যান।
ওই নারী বলেন, আন্দোলনকারীরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সরে গিয়ে আশপাশে অবস্থান নেন। তবে একজন পুলিশ সদস্যকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঘিরে মারধর শুরু করে। এ সময় আশেপাশে আর কোনো পুলিশকে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, ‘হেরা পুলিশডারে মাটিত ফালাই দিসে। একজনে বন্দুক ছিনাই নিয়া রাস্তায় ফিইক্কা মাইরা ফালাই দিসে। পরে অনেকে মিইলা ইচ্ছামতো পিডাইসে। ওগোর মধ্যেই আবার কিছু লোকজন পুলিশরে বাঁচাই দিয়া ওই দিক (মিরপুর-১১ মেট্রোর দিকে) পাঠাই দিসে।’
ঘটনাস্থলের সুপারশপের এক কর্মীও পুলিশ সদস্যকে মারধরের বিষয়টি দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করেন। পরে তাঁরা দোকানের শাটার বন্ধ করে দোতলায় চলে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা তাঁরা আর দেখতে পারেননি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা প্রায় সোয়া ১১টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ চললেও বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। যান চলাচলও দুই পাশেই স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারের কথাও জানান তিনি।
গাজীপুর: গাজীপুরের নাওজোড় ও ভোগড়া এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শ্রমিক অসন্তোষে জেলার আরো অন্তত ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধে সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।
গাজীপুর শিল্পপুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, গ্রেফতারকৃতরা শ্রমিক নন, নাশকতাকারী। পরে বেলা সোয়া একটার দিকে প্রায় চার ঘণ্টা পর দুই মহাসড়কেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁরা বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় কোনাবাড়ীর বে ফুটওয়্যার, মৌচাক এলাকার পূর্বাণী এবং তেলিচালা এলাকার লগোস অ্যাপারেলস ও এটিএস অ্যাপারেলসের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সাভার-আশুলিয়া: সাভারের হেমায়েতপুরে গতকাল বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। কয়েক হাজার শ্রমিকের অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যান এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হন।
পরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি।
এদিকে, পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এতে দীর্ঘ যানজটে অবরোধস্থলের দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। অন্যদিকে,সকাল সাড়ে আটটার দিকে সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনের সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে বিক্ষোভকারীরা ওই এলাকার বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নেন। সকাল ১০টার দিকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ইউনিক এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। অন্য কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে ভেতরেই বসে থাকেন। এ ছাড়া দুপুরে হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইর সড়কের পদ্মার মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরো প্রায় ৪০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রায় ১০টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে অছেন।
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জেও আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী ও সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে কারখানাগুলোয় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। শ্রমিকরাও কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তবে দুপুর সোয়া তিনটার দিকে কাঠেরপুল এলাকায় নতুন করে শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসায় পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিল্প পুলিশ–৪–এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পোশাকশ্রমিক ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ সংগঠন!
পোশাকশ্রমিকদের এই টানা আন্দোলন থেকে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে আরো ৬১ জনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ বলছে, তাঁরা শ্রমিকের ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতাকারী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন দাবি করেছেন, গতকাল শ্রমিকদের এই আন্দোলন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরীতে ছদ্মবেশে নাশকতাকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে তাঁরা নাশকতাকারী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য।
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের কেউ শ্রমিক নন বলে দাবি করেছেন ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোস্তাফিজুর রহমানও। গতকাল গাজীপুরে নতুন সাতজন ও নারায়ণগঞ্জে ১৭ জনকে গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যাঁরা আন্দোলন করবেন, ধরে নিতে হবে তাঁরা শ্রমিকদের দাবির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার সামনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর সাংবাদিকদের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যাঁরা শ্রমিক, তাঁরা কাজ করতে চান। যাঁরা শ্রমিক, তাঁরা কাজে যোগ দিন। পুলিশ আপনাদের নিরাপত্তা দেবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা শুধু রাস্তায় নয়, তাঁদের বাসাসহ সব জায়গায় দেওয়া হবে। জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ও সোচ্চার।’
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গাজীপুর জেলা পুলিশ নতুন সাতজনকে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের কেউই শ্রমিক নন। গাজীপুরে আজকের একটি মিছিল থেকে ছাত্রলীগের পদধারী একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শ্রমিকের নাম করে এখানে ভিন্ন কিছু চলছে। এটা কখনোই সফল হবে না। পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।
এদিকে, চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে আশুলিয়া থানায় দুটি ও সাভার মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, তেঁতুলঝোড়া এলাকায় সোমবার রাতে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নাশকতার মামলা হয়েছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মামলায় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ জানান, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুটি মামলার পর চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









