ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নামটিই বেশি আলোচনায় ছিল। সেই শুভেন্দু অধিকারীই এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার রাজ্য বিজেপির বিধায়কদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
আজ শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দুর সরকার শপথ নেবে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন এবং এনডিএ-শাসিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা আছে।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই তিনি রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লাগাতার লড়াই, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জয়- এসব বিষয়গুলো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দাবিকে আরো জোরালো করেছে।
বৈঠকের জন্য অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছলে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। হাতে ফুল তুলে দেওয়ার পর অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীকে কাছে টেনে নিয়ে পিঠ চাপড়ে দেন। বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পর অমিত শাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করছি।’
এদিকে নতুন সরকারের জন্য বিধানসভা নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। নতুন করে রঙ করার কাজ চলছে। চেয়ার টেবিলে পালিশের কাজ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যে ঘরে বসবেন সেই ঘর থেকে শুরু করে স্পিকার ও মন্ত্রীরা যেসব ঘরে বসবেন তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করে দিয়েছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। এবার বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর আসনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারান শুভেন্দু। আবার আরেকটি আসন নন্দীগ্রামেও জয়লাভ করেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এবার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু।
আনন্দবাজারের অনলাইনে বলা হয়েছে, যে কোনো রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল অমিত শাহকে। তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। তাদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর নাম ঠিক করা হয়েছে।
এখন বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে শুভেন্দু লোক ভবনে যাবেন এবং রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আবেদন জানাবেন। এর আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এর মধ্য দিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের বাংলা শাসনের অবসান ঘটে। গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২০৬ আসনে জয় পায় বিজেপি। এর ফলে রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পায় হিন্দুত্ববাদী দলটি।
দলীয় সূত্রের খবর, ভবানীপুর থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দুর জয়কে বাংলার রাজনীতির একটি প্রতীকী ও কৌশলগত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপির অভ্যন্তরে আরও কিছু নাম নিয়ে আলোচনা ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন- রাজ্য শাখার সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও রাজ্যসভার সাবেক এমপি স্বপন দাশগুপ্ত। দলের একটি অংশ স্বপন দাশগুপ্তকে একজন বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে দেখে থাকেন।
মনে করা হয়, তিনি শাসন ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সফলভাবে সংগঠন পরিচালনার কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









