কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একটি মরিচ ক্ষেতের জালে আটকা পড়েছে প্রায় ১৫ ফুট লম্বা একটি অজগর। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে দ্বীপের দক্ষিণে ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিশাল আকৃতির সাপটির খবর ছড়িয়ে পড়লে সেটি দেখতে আশপাশের এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বীপের দক্ষিণের বাসিন্দা মুসা আলী সকালে নিজের বাড়ির আঙিনায় মরিচ ক্ষেতের জালের মধ্যে অজগরটি আটকা অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটিকে উদ্ধার করা হয়।
মুসা আলী জানান, অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ ফুট এবং ওজন ২০ থেকে ২৫ কেজির মতো হতে পারে। তার ধারণা, সাপটির বয়স ৩ থেকে ৫ বছর হবে। তিনি বলেন, “অজগরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কেয়া বাগান ও আশপাশের ঝোপঝাড়ে বিচরণ করত। মাঝে-মধ্যে লোকজন এর দেখা পেলেও আজ সকালে প্রথমবারের মতো এটিকে জালের মধ্যে আটকা অবস্থায় দেখতে পাই। সাপটি এখনও জীবিত রয়েছে।”
এত বড় অজগর আটকা পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি ব্যাপক কৌতূহলেরও সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শরীফ বলেন, “সাপটির আকার অনেক বড় হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এটি নিরাপদে মুসা আলীর হেফাজতে রাখা হয়েছে।”
অজগরটি কীভাবে সেন্ট মার্টিনে এসেছে, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ মিয়ানমার উপকূল থেকে মাত্র আট কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। বর্ষা মৌসুমে মিয়ানমারের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নাফ, মায়ু ও কালাদান নদীতে প্রবল ঢল নামে। এ সময় গাছপালা, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন ভাসমান বস্তু সাগরের স্রোতে ভেসে এসে দ্বীপের উপকূলে জমা হয়। তার ধারণা, কোনো গাছ বা বাঁশঝাড়ের সঙ্গে ভেসেই অজগরটি সেন্ট মার্টিনে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এম এ সোহাগ বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অজগরটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে নিরাপদ সংরক্ষণ অথবা উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









