বাণিজ্য মেলায় দেশি-বিদেশি নানা পণ্যের সমাহারের মধ্যেও দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের প্যাভিলিয়ন ‘শাহপরান মৃৎশিল্প’।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের মাটির গৃহস্থালি সামগ্রী ও ঘর সাজানোর নান্দনিক উপকরণে সাজানো এই প্যাভিলিয়নটিতে ভিড় করছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা।
একসময় গ্রাম বাংলার গৃহস্থালির প্রায় সব প্রয়োজনীয় জিনিসই ছিল মাটির তৈরি। সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তবুও মাটির জিনিসপত্রের প্রতি মানুষের অনুভূতি রয়ে গেছে আজও।
মেলায় আসা দর্শনার্থী কাউছার বলেন, ‘আধুনিকতার ছোঁয়ায় মেলামাইন ও প্লাস্টিকের দখলে চলে গেছে রান্নাঘর। অথচ ছোট বেলায় দেখেছি আমাদের দাদি নানীরা মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল ব্যবহার করতো। এসব পণ্য শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়, দেখতেও সুন্দর এবং দামে সাশ্রয়ী।
দর্শনার্থীদের মতে, ঘর সাজাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুচিবোধ। মাটির তৈরি ভিন্নধর্মী এসব পণ্য ঘরকে সহজেই আকর্ষণীয় করে তোলে। মেলায় বিদেশি পণ্যের ভিড়েও ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বেশি প্রিয়।
শাহপরান মৃৎশিল্পের স্বত্বাধিকারী শাহপরান জানান, তিনি প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাটির তৈরি আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘৮৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পোড়ানো এসব মাটির পণ্য কাচের থেকেও অনেক বেশি টেকসই। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছেই এসব পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’
দিন-রাত পরিশ্রম করে মৃৎশিল্পীরা তৈরি করেন এসব মাটির সামগ্রী। একসময় গ্রামীণ জীবনের নিত্যপ্রয়োজন মেটানো এই শিল্প আজ কদর হারাতে বসেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক শিল্পী পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









