জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় ভিডিও ধারণ করায় ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন গণিত বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নিয়ামত উল্লাহ শোয়াইব। হামলায় তার চোয়াল ভেঙে গেছে এবং সাতটি দাঁত পুরোপুরি স্থানচ্যুত হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরও তিনি কথা বলতে পারছেন না। কাগজে লিখে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করছেন তিনি।
জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার সময় ভিডিও ধারণ করায় শোয়াইবকে মারধর করা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানেও তিনি হামলার শিকার হন। এতে তার চোয়াল ও দাঁতে গুরুতর আঘাত লাগে।
চিকিৎসক ও সহপাঠীদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় শোয়াইবের চোয়াল ভেঙে যায় এবং সাতটি দাঁত সম্পূর্ণভাবে স্থানচ্যুত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর তার চোয়ালের ভেতরে স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শোয়াইবের বড় ভাই কাজী আরিফ জানান, অস্ত্রোপচারের পর শোয়াইব তাকে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়েছেন, চোয়ালের ভেতরে স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। এক বছর পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি খুলে ফেলতে হবে। প্লেট থাকা অবস্থায় এমআরআই করানো যাবে না বলেও চিকিৎসক জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আগামী পাঁচ মাস তাকে গরুর মাংস এবং ছয় মাস কোনো ধরনের শক্ত খাবার, সিমের বিচি ও হাড়জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে শক্ত খাবার চিবানোও নিষেধ করা হয়েছে।
শোয়াইবের বন্ধু রাকিব উল ইসলাম জানান, রাতে তিনি হাসপাতালে গিয়ে শোয়াইবের খোঁজ নেন। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিডিও ধারণের সময় প্রথমে শোয়াইবকে মারধর করা হয়। পরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তার ওপর হামলা করা হয়। চোয়ালে আঘাতের পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
রাকিব বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর শোয়াইব আপাতত শঙ্কামুক্ত থাকলেও এখনো কথা বলতে পারছেন না। কথা বলার চেষ্টা করলে রক্তপাত হচ্ছে। তাই কাগজে লিখে তিনি প্রয়োজনীয় কথাবার্তা জানাচ্ছেন।
শোয়াইব কাগজে লিখে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে লিখেছেন, ‘ব্রেইন ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। নাস্তা করে নামাজ পড়ে স্লীপে (ঘুমাতে) যাই। ঠোঁটের ফোলা কমবে কখন? ব্রাশ কখন করতে পারব?’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









