বড় কোনো সেতু বা অবকাঠামো নয়, স্রেফ ২০০ ফুটের একটি বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করতে গিয়ে লাল ফিতার আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা! আর এই অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনীতির মাঠে তুমুল বিতর্ক, ট্রোল এবং হাসাহাসির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি।
শুক্রবার (০৭ আগস্ট) সকালে বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই লাল ফিতা কেটে একটি বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করেন পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। মুহূর্তের মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে কোনো সেতু ছিল না। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক এবং পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হতো। বারবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে গ্রামের মানুষ নিজেরা চাঁদা তুলে আনুমানিক ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।
শুক্রবার সকালে সেই সাঁকো চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম খান। স্থানীয় কিছু নারী-পুরুষ ও নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ফিতা কেটে সাঁকোটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনের পরপরই ছবি ও ভিডিও নেটদুনিয়ায় পোস্ট হতেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবরটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি উপহাসের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়।
ফেসবুক পেজগুলোর কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ কৌতুক ও নেতিবাচক মন্তব্যে ভরিয়ে দেন। কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘ঐতিহাসিক মেগা প্রকল্প উদ্বোধন’ বলে ব্যঙ্গ করেন, আবার অনেকেই বিষয়টিকে সস্তা রাজনীতি ও প্রচার পাওয়ার কৌশল বলে অভিহিত করেন। পরিস্থিতি এতটাই গড়ায় যে, কমেন্ট বক্সে বহু নেটিজেন শালীনতার সীমা ছাড়ানো মন্তব্যও করেন।
তবে এর মাঝেও গুটিকয়েক মানুষকে দেখা গেছে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে, কারণ ফিতা কাটা যাই হোক না কেন, সাঁকোটির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে।
ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চললেও নিজের জায়গায় অটল রয়েছেন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। পুরো বিষয়টিকে তিনি ষড়যন্ত্র ও নোংরামি বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, বহুদিন ধরে এই খালের ওপর সেতু না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম কষ্ট হচ্ছিল। সরকারি সাহায্য না পেয়ে এলাকাবাসী নিজেদের গ্যাটের টাকায় এই সাঁকোটি বানিয়েছে। তাঁদের সেই সামাজিক উদ্যোগ ও আনন্দকে সম্মান জানাতেই আমি ফিতা কেটেছি। কিন্তু এটি নিয়ে যেভাবে সাইবার হামলা ও নেতিবাচক ট্রোল করা হচ্ছে, তা নিছক নোংরামি। এমনকি আমার নিজের দলের কতিপয় হিংসুটে কর্মীরও এতে উসকানি আছে। তবে এতে আমি মোটেও বিচলিত নই, মানুষের বিপদে পাশে থাকার এই কাজ আমি ভবিষ্যতেও করে যাব।
বিএনপি নেতার এমন সরল স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও বরিশালজুড়ে এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এই লাল ফিতা আর বাঁশের সাঁকোর গল্প।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









