রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেই একাডেমিক সাফল্য বাধাগ্রস্ত হয়–এমন ধারণা সমাজে প্রচলিত থাকলেও সেই ধারণাকে নিজের ফলাফলের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান মুন্না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি।
সদ্য প্রকাশিত স্নাতক চূড়ান্ত ফলাফলে ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করেছেন মেহেদী হাসান। একই সঙ্গে তিনি কৃষি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে নিজের মেধা ও একাডেমিক অধ্যবসায়ের স্বাক্ষর রেখেছেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন মেহেদী। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিলেও পড়াশোনার প্রতি তার মনোযোগে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং রাজনীতি ও একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য রেখে তিনি অর্জন করেছেন বিভাগের সর্বোচ্চ ফলাফল।
মেহেদীর এই সাফল্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে অনেক সময় তার মেধা, যোগ্যতা কিংবা একাডেমিক সাফল্যের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেখা হয়। অথচ মেহেদীর ফলাফল দেখিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেই তার পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন ধারণা সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বরং সময় ব্যবস্থাপনা, অধ্যবসায়, নিয়মিত পড়াশোনা এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থাকলে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সহশিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকা সম্ভব।
মেহেদীর সহপাঠীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি একদিকে যেমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, অন্যদিকে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ছিলেন মনোযোগী। পরীক্ষার প্রস্তুতি, একাডেমিক কাজ এবং বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ ছিল নিয়মিত। ফলে তার এই ফলাফল সহপাঠীদের কাছেও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিভাগে প্রথম হওয়ার বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, ‘‘ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মনে-প্রাণে ধারণ করেছি। নোবিপ্রবি ছাত্রদল কখনো ক্লাস বা পরীক্ষা বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাপ দেয়নি। বরং কোন কোর্স কীভাবে পড়তে হবে, সে বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি থেকেও পরামর্শ পেয়েছি। সক্রিয় রাজনীতি করার পরও আমার ক্লাসে উপস্থিতি ছিল শতভাগ।’’
নিজের স্কুলজীবনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘ক্লাস টেনে পড়ার সময় পুরো স্কুলে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হয়। বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করি।’’
মেহেদী আরও বলেন, ‘‘ছাত্রদল করলেই কারও ক্যারিয়ার নষ্ট হয় না। বরং এখানে ভালো ফলাফল করার পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ তৈরি করার জন্য অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। আমার ক্ষেত্রেই তার বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও দিন দিন আমার সিজিপিএ ভালো হয়েছে।’’
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং পড়াশোনায় ভালো করা দুটিকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে না দেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দুটির সমন্বয় ঘটানো সম্ভব, মেহেদী হাসানের অর্জন তারই উদাহরণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









