ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, “দেশের বেকার যুবকদের পেটে লাথি মেরে নির্লজ্জ দলীয়করণের মাধ্যমে মেধাকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগের ছিল কোটা, আর বিএনপির হলো নির্লজ্জ দলীয়করণ। এই নির্লজ্জ দলীয়করণই একসময় বিএনপির পতনের কারণ হবে।”
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, “বিএনপির ইতিহাস গণতন্ত্রহীনতার ইতিহাস। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে। অতীতেও বিএনপি ও ছাত্রদল বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করেছে। তাদের হাত ধরেই ক্যাম্পাসগুলোতে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির প্রচলন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।”
ডাকসু ভিপি বলেন, “ডাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা ইনসাফের পক্ষের প্রতিনিধিদের ওপর আস্থা রেখেছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা কথা ও কাজের মধ্যে মিল রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ করে সহিংসতা, মারামারি ও হানাহানিমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন কখনো হানাহানি ও মারামারির রাজনীতি ফিরে না আসে, সে জন্য শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ক্যাম্পাসের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
সরকারের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, “পিএসসিসহ বিভিন্ন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি চার হাজারের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে। এর মাধ্যমে মেধাবীদের বঞ্চিত করে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “অতীতে ২৭তম বিসিএসের দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের মাধ্যমে মেধা ধ্বংস করা হয়েছে। এখন জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়েও একইভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে দেশের বেকার তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, “আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নেমেছি। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মতামত দিয়েছে। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদের আলোকে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে আমরা আন্দোলন করছি।”
বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখনো সময় আছে। অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ডা. শফিকুর রহমান এক দফা আন্দোলনের ডাক দিলে রাজপথে তার জবাব দেওয়া হবে।“
এসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ঢাকা ৪-এর এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









