ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে চিকিৎসাধীন এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। ২০ বছর বয়সি রিয়া ওই ভবনের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল।
নিহতের বাবা লতিফ মল্লিক হাসপাতালে বলেন, পাঁচ দিন আগে তিনি মেয়েকে সেখানে ভর্তি করান। রিয়া মানসিক সমস্যাসহ কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন।
লতিফ মল্লিক বলেন, “রাত ৩টার দিকে অন্য রোগীর লোকজন আমাকে বলে, ‘এই দেখেন আপনার মেয়ে লাফ দিচ্ছে’। সাথে সাথে আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি, সব শেষ। আমার মেয়ে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। সবাই তাকে লাফ দিতে নিষেধ করলেও সে কারো কথা না শুনে লাফ দিলে নিচে থাকা একটি প্রাইভেট কারের উপরে পড়ে। এতে তার মাথা ফেটে যায়।”
পরে রিয়াকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা লতিফ মল্লিক বলেন, “এসএসসি পাশ করার পরেই সিঙ্গাপুর প্রবাসী এক ছেলের সাথে মোবাইলে আমার মেয়েকে বিয়ে দিই। এর মধ্যে ওর স্বামী দেশে এসে আবার চলে যায়। অনেক চেষ্টার পরেও বাচ্চা না হওয়ায় ধীরে ধীরে ওর মানসিক সমস্যা শুরু হয়। ১০ দিন যাবত ওর সমস্যাটা একটু বেশি হচ্ছিল। সবসময় উল্টাপাল্টা কথা বলত। ওকে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলত, ‘এটা কোন দেশ? আমি কোন দেশে আছি?’ এছাড়া জিহ্বায় ঘা এবং শরীরের অন্যান্য কিছু সমস্যা নিয়ে পাঁচদিন যাবত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল।”
নিহতের গ্রামের বাড়ি পাবনা সদরের চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরডাঙ্গি গ্রামে।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, “তরুণীর ময়নাতদন্ত হবে। এজন্য তার লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। শাহবাগ থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









