জীবনের প্রতিটি সময় একরকম যায় না। কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক সময় মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে এই চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুন
মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় শ্বাস দ্রুত হয়ে যায়। এ সময় ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে শ্বাস নিলে মন শান্ত হতে পারে।
বক্স ব্রিদিং পদ্ধতি
* ৪ সেকেন্ড শ্বাস নিন।
* ৪ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন।
* ৪ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।
এই অনুশীলন হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে এবং উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
যা নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না
সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই অযথা দুশ্চিন্তা না করে যেসব বিষয়ে আপনি বাস্তবে পদক্ষেপ নিতে পারেন, সেদিকে মনোযোগ দিন। বই পড়া, হাঁটাহাঁটি, গান শোনা বা নতুন কিছু শেখা মনকে ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করে।
ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন
নেতিবাচক চিন্তা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। নিজেকে মনে করিয়ে দিন, প্রতিটি সমস্যারই কোনো না কোনো সমাধান আছে। বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে এগোলে চাপও কম অনুভূত হয়।
প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে একটু সময় নিন
রাগ বা হতাশার মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে অন্তত ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। এই ছোট বিরতি আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভুল সিদ্ধান্ত এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ইতিবাচক মানুষের সঙ্গে সময় কাটান
যারা আপনাকে উৎসাহ দেন, সাহস জোগান এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকেন, তাদের সঙ্গে সময় কাটান। প্রয়োজন হলে নিজের অনুভূতি বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিন।
নিজের যত্ন নিন
মানসিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত নিজের যত্ন নেওয়া জরুরি।
* পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন।
* স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খান।
* নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
* নিজের পছন্দের কাজের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় রাখুন।
কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন?
যদি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার অনুভূতি স্বাভাবিক জীবন, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন : খারাপ সময় স্থায়ী নয়। ধৈর্য, ইতিবাচক মনোভাব এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মানসিক চাপ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









