রাজধানীর কলাবাগানে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শাশুড়ি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে কলাবাগান থানাধীন কাঁঠালবাগান আলআমিন মসজিদ রোডের ৫২/২ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ফারজানা আক্তার (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৩৪)।
নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী মো. ফারুক হোসেন জানান, সকালে ফোনে তিনি জানতে পারেন, কাঁঠালবাগানের বাসায় তার মেয়ের জামাই শিপনের সঙ্গে মেয়ে ও শাশুড়ির ঝগড়া হচ্ছে। খবর পেয়ে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হন।
সকাল ৯টার দিকে বাসায় পৌঁছে তিনি ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় ফারজানার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ফিরোজা বেগম মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন। পরে তিনি মেয়ের মরদেহ সেখানে রেখে ফিরোজা বেগমকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পটভূমি জানিয়ে ফারুক হোসেন বলেন, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গত শুক্রবারের আগের শুক্রবার মা-মেয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। গত শুক্রবার ফারুকের ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। বিয়ের আগের দিন সেখানে যান শিপন। তবে বিয়ের দিন সকালে ফারজানা ও তার স্বামীর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এর জেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া না করেই শিপন ঢাকায় চলে আসেন।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে মা, মেয়ে ও ফারুক গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার কাঁঠালবাগানের বাসায় ফেরেন। রবিবার সকালে ফারুক হোসেন বাইরে থাকাকালে আগের বিষয়গুলো নিয়ে বাসায় মা-মেয়ের সঙ্গে শিপনের আবারও ঝগড়া হয়।
একপর্যায়ে শিপন ধারালো ছুরি দিয়ে মা ও মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরে তিনি তার এক বছর বয়সী শিশুপুত্র রায়হানকে নিয়ে পালিয়ে যান। শিপন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক জানান, ফিরোজা বেগমের মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি কলাবাগান থানাকে জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









