নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণিকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২০ মে) মধ্যরাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচ কবরস্থান এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকায় ওসমান গণি বেশ কিছুদিন ধরে মাটি কেনাবেচার ব্যবসা করে আসছিলেন। বুধবার রাত ১২টার দিকে মাটি তোলার ভেকু (এক্সকাভেটর) ডেবে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি মোটরসাইকেলযোগে সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছামাত্র ২০-২৫ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল তাকে ঘিরে ফেলে এবং মাথায়, গলায় ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ওসমান গণি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ওসমান গণি বড় বিনাইর চর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।
ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ১নং ওয়ার্ড সভাপতি ইসমাইল মিয়া অভিযোগ করেন, দুপ্তারা ইউনিয়নে এসে মাটি তোলার জেরে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়া ওসমান গণির কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডাও হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার তদন্তে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়াসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের আগে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে বিএনপি নেতা ওসমান গণি হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টা থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভুলতা-বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়বিনাইরচর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় বেশ কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয় এবং মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রহমান জিকু ফেসবুকে এক বার্তায় এই হত্যার কঠোর বিচার দাবি করেন। এছাড়া ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনির হোসেন ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মোবারক হোসেন এক বিবৃতিতে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









