প্রচণ্ড গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামলো রাজশাহীতে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নগরজুড়ে স্বস্তি ফিরলেও, একই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি। বিশেষ করে নগরীর নিচু এলাকায় পানি জমে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। হঠাৎ নামা এই বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং অনেক স্থানে পানি জমে যায়।
তবে বৃষ্টির ইতিবাচক প্রভাবও ছিল চোখে পড়ার মতো। পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পর নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জমে থাকা পশুর রক্ত, বর্জ্য ও দুর্গন্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। শুক্রবারের ভারী বৃষ্টিতে সেই বর্জ্যের বড় অংশ ধুয়ে গিয়ে ড্রেনে মিশে যায়। এতে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, উপশহর, শিরোইল, কোর্ট স্টেশন ও নিউমার্কেট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঈদের পর বিভিন্ন স্থানে কোরবানির বর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির পর পরিবেশ অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে একই সঙ্গে অনেক এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।
বিশেষ করে নগরীর নিম্নাঞ্চল ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা বেশি দেখা যায়। বৃষ্টির সময় ও পরে অনেক সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের বেশ বিপাকে পড়তে হয়। অনেক পথচারীকে জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টিতে গরম কমেছে, এটা ভালো দিক। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। ড্রেনের পানি ঠিকমতো নামতে পারে না।”
আরেক বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “ঈদের পর কোরবানির বর্জ্যের কারণে খুব দুর্গন্ধ ছিল। আজকের বৃষ্টিতে অন্তত পরিবেশটা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে।”
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। আগামী কয়েকদিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









