ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নামাজের সময় মেলার প্রচারণার মাইক উচ্চস্বরে বাজানোর প্রতিবাদ করায় মসজিদের সাবেক এক ইমামের উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাওলানা ইউসুফ আলী নামে মাদ্রাসা শিক্ষক ও একটি মসজিদের সাবেক ইমাম গুরুতর আহত হন। রড দিয়ে পিটিয়ে তার ডান চোখ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে ) সন্ধ্যায় উপজেলার যশরা ইউনিয়নের বখুরা গ্রামের চৌরাস্তা এলাকায় বখুরা জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মাওলানা ইউসুফ আলী বখুরা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলার উত্তর পুখুরিয়া জালাল জামে মসজিদের সাবেক ইমাম এবং পুখুরিয়া দারুল হুদা মহিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক।
থানায় দায়ের করা এজাহার, আহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় বখুরা চৌরাস্তা এলাকায় সাইফুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি মেলার প্রচারণার মাইক উচ্চস্বরে বাজানো হচ্ছিল। এ সময় বখুরা জামে মসজিদের মুসল্লিদের নামাজ পড়তে অসুবিধা হচ্ছিল। মাওলানা ইউসুফ আলী ফরজ নামাজ শেষ করে মসজিদের বাইরে এসে মাইক বন্ধ করতে অনুরোধ করেন।
এ নিয়ে সাইফুল ইসলামের সাথে মাওলানা ইউসুফ আলীর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাইফুল ইসলাম ও তার লোকজন মাওলানা ইউসুফ আলীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। সাইফুল ইসলাম রড দিয়ে মাওলানা ইউসুফ আলীর ডান চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে এলাকাবাসী মাওলানা ইউসুফ আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় মাওলানা ইউসুফ আলীর স্ত্রী মোছা. মুর্শিদা বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে একজন নিরীহ ইমামের উপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে শনিবার (৩০ মে) সকালে পৌর শহরের জামতলা মোড়ে নাগরিক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
গফরগাঁও থানার ওসি আ. স. ম. আতিকুর রহমান বলেন, ‘‘এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









