সিলেটে এবারের ঈদুল আজহায় সরকার নির্ধারিত দামের ধারেকাছেও মেলেনি কোরবানির পশুর চামড়ার দাম। কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে অনেক স্থানে চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়া এমনকি মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
কেউ কেউ বাধ্য হয়ে চামড়া বিনামূল্যে দান করে দিয়েছেন, আবার কেউ বিক্রি করেছেন নামমাত্র মূল্যে। এর পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের কাছে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর ধরে বকেয়া থাকা পাওনা টাকা উদ্ধার না হওয়ায়, নতুন করে আবার কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে কি না—তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সিলেটের প্রধান চামড়া সংগ্রহকারী সংগঠন ‘শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি’র সদস্য মো. শাহজাহান জানান, বৃহস্পতিবার কোরবানির পর সিলেট মহানগর এলাকা থেকে প্রায় ৪০-৫০ হাজার এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আরও ৩০-৪০ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করলেও এর ভবিষ্যৎ ও দাম নিয়ে চরম শঙ্কায় আছেন।
তিনি আরও জানান, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় এবার চামড়া সংগ্রহ পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক। অনেকে উপযুক্ত দাম না পেয়ে তাদের পশুর চামড়া হয় কাউকে বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন, না হয় নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।এদিকে ঈদের কয়েক দিন আগে সিলেটের কওমি মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিলেও, শেষ পর্যন্ত তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায়। বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসকের সহায়তায় শেষ মুহূর্তে তারা চামড়া সংগ্রহে নামে। মূলত এই কওমি মাদ্রাসাগুলোর কাছ থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিংহভাগ চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন।
নগরীর পাঠানটুলার বাসিন্দা রিয়াজুদ্দিন জানান, চামড়ার বাজার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় তিনি তার পশুর চামড়া কাজিবাজার মাদরাসায় দান করে দিয়েছেন।
চামড়া সংগ্রহকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে অধিকাংশ চামড়াই নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। যাতায়াত খরচসহ প্রান্তিক মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস চামড়া পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা ট্যানারি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে কোরবানির পশুর চামড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে, সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাকে করে সেই চামড়াগুলো সরিয়ে নিতেও দেখা গেছে। এ ছাড়া সিলেটের বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সংগৃহীত চামড়া কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দিয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন।
অপরদিকে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের পাশে গ্রামাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা চামড়ার স্তূপ দেখা যায়।
যদিও সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম দাবি করেছেন, এ বছর চামড়া সংগ্রহ সন্তোষজনক। চামড়া ফেলে দেওয়া কিংবা মাটিতে পুতে ফেলার মতো কোনো ঘটনা তাদের চোখে পড়েনি। তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ করেছে এবং ব্যবসায়ীরাও তাদের কাছ থেকে সেগুলো কিনছেন। চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে দেশের চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
তবে প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও মাঠপর্যায়ের চিত্র এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া টাকার অনিশ্চয়তা সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









