মিক জ্যাগার, কিথ রিচার্ডস ও রনি উড—তিনজনের বয়সই আশির ঘরে। তবু নতুন অ্যালবাম ‘ফরেন টাংস’ শুনলে মনে হবে, সময় যেন তাদের ছুঁতেই পারেনি।
৬৪ বছরের ক্যারিয়ারে রক সঙ্গীতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যান্ড রোলিং স্টোনস ১০ জুলাই প্রকাশ করেছে তাদের ২৫তম স্টুডিও অ্যালবাম। ২০২৩ সালের ‘হ্যাকনি ডায়মন্ডস’-এর পর মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে এটি তাদের দ্বিতীয় নতুন অ্যালবাম। টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে ব্যান্ডটি।
জুলাইয়ের শেষে মিক জ্যাগারের বয়স হবে ৮৩ বছর। ডিসেম্বরে ৮৩-তে পা দেবেন কিথ রিচার্ডস। আর রনি উড আগামী বছর ৮০ পূর্ণ করবেন। বয়সের ভার সত্ত্বেও থেমে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই তাদের। বরং নতুন অ্যালবাম ও ভবিষ্যৎ সফরের পরিকল্পনাই জানিয়ে দিচ্ছে, রোলিং স্টোনস এখনো সক্রিয়।
‘ফরেন টাংস’-এ রয়েছে ব্যান্ডটির পরিচিত সব উপাদান—কিথ রিচার্ডসের শক্তিশালী গিটার রিফ, মিক জ্যাগারের স্বতন্ত্র কণ্ঠ, রনির প্রাণবন্ত গিটার সোলো এবং ক্লাসিক রক অ্যান্ড রোলের আবহ। পাশাপাশি কয়েকটি গানে সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতারও ইঙ্গিত দিয়েছেন জ্যাগার। গানের কথায় উঠে এসেছে ধনকুবের, স্বৈরশাসন এবং প্রযুক্তি জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ। তবে এটি কোনো রাজনৈতিক অ্যালবাম নয়; বরং রোলিং স্টোনসের স্বভাবসুলভ রকধারাই প্রাধান্য পেয়েছে।
অ্যালবামের শুরু ‘রাফ অ্যান্ড টুইস্টেড’ দিয়ে, যা ব্যান্ডটির ব্লুজভিত্তিক শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। শেষ গান ‘বিউটিফুল ডেলিলাহ’ কিংবদন্তি চাক বেরির গানের নতুন পরিবেশনা, যেখানে জ্যাগার ও রিচার্ডসের দীর্ঘদিনের সঙ্গীতসঙ্গীর রসায়ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৪টি গানের এক ঘণ্টা দুই মিনিটের এই অ্যালবামটির প্রযোজনা করেছেন অ্যান্ড্রু ওয়াট। তার দক্ষ প্রযোজনায় রিচার্ডসের গিটার, জ্যাগারের কণ্ঠ এবং পুরো ব্যান্ডের সম্মিলিত পরিবেশনা নতুন প্রাণ পেয়েছে। অনেক সমালোচকের মতে, ওয়াটের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—তিনি আবারও স্টোনসকে একসঙ্গে আগের মতো বাজাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
অ্যালবামের উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জেলাস লাভার’, ‘মিস্টার চার্ম’, ‘রিংগিং হলো’, ‘নেভার ওয়ান্ট টু লুজ ইউ’, ‘হিট মি ইন দ্য হেড’ এবং কিথ রিচার্ডসের গাওয়া ব্যালাড ‘সাম অব আস’। এছাড়া দ্য কিউরের রবার্ট স্মিথ, রেড হট চিলি পেপার্সের চ্যাড স্মিথ, স্টিভ উইনউড ও পল ম্যাককার্টনিও অ্যালবামে অতিথি শিল্পী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
সমালোচকদের মতে, ‘ফরেন টাংস’ হয়তো রোলিং স্টোনসের সর্বকালের সেরা অ্যালবামগুলোর কাতারে জায়গা পাবে না। তবে ‘ইমোশনাল রেসকিউ’ কিংবা ‘স্টিল হুইলস’-এর মতো শক্তিশালী কাজের পাশে নিশ্চিন্তে বসতে পারে। চার দশকেরও বেশি সময় পরও এমন একটি অ্যালবাম প্রকাশ করতে পারাই রোলিং স্টোনসের জন্য বড় অর্জন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









