শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনকভাবে মাটি অস্বাভাবিক গরম হয়ে ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় তাপের উৎস অনুসন্ধানে সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশপথসংলগ্ন প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। স্থানীয়রা জানান, মাটিতে হাত রাখলেই তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। পরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশের স্থানে গর্ত খনন করা হলে সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষজন সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
শনিবার গর্ত খননের সময়ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা একাধিকবার পানি ঢেলে মাটির নিচের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করেন। তবে তাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না আসায় রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
রোববার ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে খননকাজের প্রস্তুতি হিসেবে একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) আনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে এসে মাটির নিচে গ্যাসের উপস্থিতি, রাসায়নিক বিক্রিয়া অথবা অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক কারণে এ ধরনের তাপ সৃষ্টি হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুল রহমান বলেন, “শুক্রবার থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের একটি নির্দিষ্ট স্থানে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানটি কর্ডন করে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। কয়েক দফা পানি প্রয়োগ করেও তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা যায়নি। তাপের উৎস শনাক্তে পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খনন ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
তিন দিন ধরে চলা এই রহস্যজনক ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এখন পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ দলের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









