শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা মাটির নিচে কোনো গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শেষে এ তথ্য জানান সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বাপেক্সের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ভূতত্ত্ব ও ভূতাত্ত্বিক বিভাগের উপব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গ্যাসের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে প্রকৃত কারণ জানতে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠে। সেখানে হাত দিলে তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছিল এবং কিছু অংশ থেকে ধোঁয়াও বের হতে দেখা যায়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিতে গর্ত করে পানি ঢেলে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আসায় বিষয়টি বাপেক্সকে অবহিত করা হয়।
বাপেক্সের উপব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম বলেন, “আমরা অগ্নিশিখা পরীক্ষাসহ কয়েকটি প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। এসব পরীক্ষায় গ্যাসের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে সৃষ্ট স্পার্ক, কোনো রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়া কিংবা পুরোনো বর্জ্য থেকে সৃষ্ট তাপের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের প্রায় চার ফুট গভীর থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ শেষে তাপ উৎপন্ন হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে রহস্যজনক এ ঘটনার কারণ জানতে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও কৌতূহল বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষাগারের ফলাফল পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









