দারিদ্র্য কখনো মেধার কাছে হার মানে, আবার কখনো মেধার পথ রুদ্ধ করতেও উদ্যত হয়। তবে রাষ্ট্র ও সমাজ যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে প্রতিকূলতাও পরাজিত হয়। এমনই এক অনুপ্রেরণার গল্পের নাম লালমনিরহাটের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. নাসিফুজ্জামান নাসিফ।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৩১৬তম স্থান অর্জন করে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়া নাসিফের এই সাফল্যে আনন্দে ভাসে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।
কিন্তু সাফল্যের এই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুললেও আর্থিক সংকটের কারণে সেই দুয়ারে প্রবেশ করাই হয়ে উঠেছিল কঠিন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের রমাকান্ত এলাকার বাসিন্দা নাসিফের পরিবারের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বুয়েটে ভর্তির পরপরই আবাসিক হলে আসন না পাওয়ায় ঢাকায় থাকা-খাওয়ার বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হয়। অন্যদিকে প্রকৌশল শিক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক একটি ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ফলে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
উপায়ান্তর না দেখে ল্যাপটপ কেনা ও পড়াশোনার প্রাথমিক খরচের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন নাসিফ। তার আবেদন এবং অসাধারণ মেধার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদানের চেক নাসিফের হাতে তুলে দেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল হক প্রধান।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ। আর্থিক সংকট যেন কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সরকারি এই সহায়তা নাসিফের ল্যাপটপ কেনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন ও শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, নাসিফের মতো সংগ্রামী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে রাষ্ট্রের এমন সহযোগিতা শুধু একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নই বাঁচায় না, বরং সমাজে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও প্রেরণাও জোগায়।
অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নাসিফের এই অর্জন প্রমাণ করে, স্বপ্ন দেখার সাহস আর মেধার শক্তি থাকলে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে যখন রাষ্ট্র পাশে দাঁড়ায়, তখন একজন নাসিফ হয়ে উঠতে পারেন আগামী বাংলাদেশের গর্ব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









