পটুয়াখালীর বাউফল-ঢাকা রুটে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং গাদাগাদি করে যাতায়াতের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে। যাত্রীদের দাবি, কয়েকটি পরিবহন একীভূত হয়ে নতুন ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর থেকেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাউফল-ঢাকা রুটে মুন পরিবহন, অন্তরা পরিবহন, চেয়ারম্যান পরিবহন, ইসলাম পরিবহন, সাকুরা পরিবহন, বাউফল ট্রাভেলস ও কিংস পরিবহনসহ সাতটি ব্যানারের বাস চলাচল করত। এসব পরিবহনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাস প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন সেবা দিত।
সম্প্রতি কয়েকটি পরিবহন যৌথভাবে “দশমিনা এক্সপ্রেস” নামে নতুন ব্যানারে কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপর থেকেই বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
তাদের দাবি, আগে যেখানে প্রতিদিন ৭০টির বেশি বাস চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০টি বাস রাস্তায় নামছে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং বাসে সিট সংকট দেখা দিয়েছে।
বাউফলের বগা ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রী উজ্জ্বল হোসেন জানান, সকাল ৯টা থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করেও দুপুর পর্যন্ত কোনো বাস পাননি। তিনি বলেন, আগে সহজেই বাস পাওয়া যেত, এখন কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিটযুক্ত টিকিটের দামও ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘‘বসে বা দাঁড়িয়ে—যেভাবেই যাত্রা করা হোক না কেন, সবার কাছ থেকেই একই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’’
ঢাকাগামী যাত্রী কামরুল হাসান জানান, সকাল থেকে বাসের অপেক্ষায় থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। বাসের সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
দশমিনা এক্সপ্রেসের বগা কাউন্টারের এক কর্মচারী জানান, পরিবহন মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন সব বাস এক ব্যানারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং ট্রিপ সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়েছে। মালিকদের দাবি, লোকসানের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের সংখ্যা কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে ভাড়া বৃদ্ধি এবং সেবা সংকট দুটোই তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে বাউফল-ঢাকা রুটে ভাড়া ছিল প্রায় ৫০০ টাকা, সেখানে এখন ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবহন মালিক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘‘নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আগে প্রায় ৭০টি বাস চলাচল করলেও বর্তমানে ৩৮টি বাস পরিচালিত হচ্ছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









