‘পানাম সেতু’। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তির অন্যতম নিদর্শন। দীর্ঘদিন অযত্ন অবহেলার কারনে সেতুটি বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেন বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। বর্তমানে সংস্কারকাজ চলমান। স্থাপত্যরীতি না মেনে পানাম সেতুর সংস্কার কাজের অভিযোগ করেছে সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি।
রবিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে চুন-সুরকির পেষ্ট তৈরি করে সংস্কারকাজ করছেন অভিজ্ঞ কারিগররা। সংস্কারকাজে পুরনোর ইটের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে বর্তমান সময়ের মানহীন ইট। অথচ পানাম সেতু নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে মোগল আমলের লাখোরি ইট। লাখোরি বা বাদশাহি ইট ছিল সাধারণ ইটের চেয়ে পাতলা ও চ্যাপ্টা। লাল রঙের এই ইটগুলো আগুনে পুড়িয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হতো। মানহীন ইট ব্যবহারে সেতুর ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
সোনারগাঁয়ে ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁ গঙ্গাবাসী রামচন্দ্র পোদ্দার মডেল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক সানজিদা আক্তার বলেন, সোনারগাঁয়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, মূঘল সম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ শাসনে আসার পর মুঘলরা শাসনকাজ পরিচালনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সোনারগাঁয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেন। তখন যে কয়েকটি সড়ক ও সেতু নির্মান করেন পানাম সেতু তার অন্যতম। তিন খিলান বিশিষ্ট সেতুটি দৈর্ঘে ১৭৩ ফুট এবং প্রস্থে ১৪ ফুট। সেতুটির খাঁড়া ইটের গাথুনি বৃত্তাকারে সন্নিবেশিত। সেতুর মধ্যবর্তী খিলানটি অপর দুটি অপেক্ষা উচু এবং প্রশস্ত। যার ফলে সেতুটির নিচ দিয়ে ছোট ছোট জলযান চলাচল করতে পারত।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি শাহেদ কায়েস অসন্তোষ প্রকাশ করে কালের কন্ঠকে জানান, মুঘল আমলের এ স্থাপত্যকীর্তির সংস্কার কাজে বেশ কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে, সেতুর পিলারের নিচে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে না, যা সেতুটির স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিক নীতি মেনে যে প্রক্রিয়ায় সেতুটি সংস্কার করার কথা ছিল, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সোনারগাঁ শাখার কাষ্টরিয়ান তানজিলুর রহমান জানান, মোঘল আমলের তিনখিলান বিশিষ্ট সেতুর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। তাই আগামী প্রজন্মকে ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক আফরোজা খান মিতা কালের কন্ঠকে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক নীতি মেনেই সংস্কার কাজ হচ্ছে। এরপরও যদি কোন ত্রুটি থাকে জানাবেন সংশোধন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









