হাওরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই বিদ্যালয়গামী শিশুদের যাতায়াত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় বর্ষাকালে চারপাশ পানিতে তলিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সময় নৌকাই তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
স্কুলে যাতায়াতের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা, মেরামত করা কিংবা মাঝি খুঁজে পেতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে বর্ষার শুরু থেকেই নানাবিধ সমস্যার মুখে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায় এবং পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
চলতি বছরেও মধ্যনগর উপজেলার রংচী, খিদিরপুর, বাট্টা, নয়াবন্দ, বীরসিংহপাড়া, শালীয়ানীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয় চত্বর ও আশপাশের এলাকা আগেভাগেই পানিতে তলিয়ে গেলেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষার্থীদের পারাপারের উপযোগী নৌকার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। ফলে বর্ষার শুরু থেকেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
রংচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোক্তার আলম বলেন, “আমরা হাওরাঞ্চলের মানুষ অনেক কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করি। সারা বছর হাওরে মাছ ধরি এবং বছরে একবার বোরো ধান চাষ করি। আমাদের পক্ষে প্রতিদিন ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না। বর্ষাকালে রাস্তাঘাট না থাকায় এবং পারাপারের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। অনেক সময় পানিতে ভিজে স্কুলে যেতে হয়, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
বীরসিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক শফিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েক দিন আগে বিদ্যালয় খুললেও নৌকার ব্যবস্থা না থাকায় শিশুরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না। অনেক সময় অভিভাবকেরা সন্তানদের নিয়ে গেলেও সবাই তা পারেন না। ফলে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।”
রংচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নীল রতন জানান, বিদ্যালয় চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। কিছু শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সহায়তায় বিদ্যালয়ে আসছে। তবে শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য সরকারি কোনো নৌকা নেই। তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্যোগেই নৌকা ও মাঝির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম বলেন, “বর্ষা মৌসুমে পারাপার সমস্যার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয় এবং তারা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারে না। তবে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “উপজেলার ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪০টিতে বর্ষাকালে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। তবে এসব বিদ্যালয়ের জন্য সরকারিভাবে নৌকা বা মাঝি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই। নৌকার মাধ্যমে পারাপার করতে হয় এমন বিদ্যালয়গুলোর তালিকা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









